রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮
logo
সুজনের গোলটেবিল বৈঠক
'বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোই সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়'
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৪:১০:১৩
প্রিন্টঅ-অ+
'দেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পথে একটি অন্তর্নিহিত প্রতিবন্ধকতা। এবস্থায় এমনকি সবচেয়ে স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সহজ হবে না'।
 
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)-এর উদ্যোগে ‌'সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে করণীয়' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সুজন নেতারা এ মন্তব্য করেন।
 
সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, সুজন নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আবুল হাসান চৌধুরী, হুমায়ূন কবীর হিরু, ড. শিবলী নোমান, সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং ড. ইমতিয়াজ হোসেন প্রমুখ।
 
মূল প্রবন্ধে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'বর্তমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পরবর্তী মেয়াদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা বর্তমান সংসদ বহাল রেখেই। এই বিধান বহাল রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে 'লেভেল পেইং ফিল্ড' বা সবার জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা দুরূহ হবে। আর সেক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে সুদূরপরাহত। '
 
এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, 'নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, প্রয়োজন মনে করলে সঠিক নির্বাচনের স্বার্থে ইসি তার বাইরেও তা প্রয়োগ করতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যস্থতা বা তফসিলের আগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা ইসির দায়িত্ব নয়। এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক দল ভোট চাইছে। আরেক দল শৃঙ্খলিত হয়ে আছে।
 
তফসিলের ৪৫ দিনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা অবাস্তব। এখন থেকে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ' রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং পরাজয় মেনে নেয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রি. জে.  (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'তাত্ত্বিক বা ক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের কমিশনের চেয়ে শক্তিশালী ও বড়। কিন্তু সরকার শত ভাগ সহায়তা করলেও কী ভালো নির্বাচন সম্ভব? দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু এর অন্তরায় হচ্ছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দলীয়করণ ও নিরাপত্তাহীনতা। রাজনৈতিক দলগুলোকে ঠিক করতে হবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কিনা। ' আবার ইসির ওপর সবার আস্থা না থাকলেও তাদের পক্ষে নির্বাচন করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশে অশান্তি দেখা দেয়। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। '
 
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও নিজেদের  রোডম্যাপ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সংলাপ শুরু এবং সংলাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলা হয়,  'আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে নির্বাচনী বিধি-বিধানে সংস্কারসহ নির্বাচন কমিশনের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। একই সঙ্গে করণীয় রয়েছে সরকার, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের। '

রাজনীতি এর আরো খবর