রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯
logo
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের সমালোচনায় ফখরুল
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:৫৩:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব
ঢাকা: খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্বাচনী প্রস্তাবের বিষয়ে গণমাধ্যমের একাংশের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবের সমস্যাগুলো সুস্পষ্ট করতে বলেছেন তাদের।

রোববার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব খোলামনে প্রস্তাবটি আবারও ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।

প্রস্তাবটিকে অবাস্তব ও জামায়াতে ইসলামীকে রক্ষার কৌশল বলে অভিহিত করায় মির্জা ফখরুল সমালোচনা করেন বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের। নামোল্লেখ না করে তাদেরকে এক এগারোর সহায়ক শক্তি বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও পত্রিকা দুটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছে দীর্ঘদিন ধরে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু কিছু পত্রিকা যারা ১/১১ অবৈধ সরকারকে নিয়ে আসার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ভূমিকা পালন করেছেন, তারা এই প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন রকম সমালোচনা করছেন শুধু নয়, তারা আওয়ামী লীগের সুরে সুর মিলিয়ে প্রায় রিজেক্ট করে দেবার ব্যবস্থা করছেন।

“আমি তাদেরকে বলতে চাই, সুস্পষ্ট জায়গায় নিয়ে আসুন। কোন জায়গায় সমস্যা আছে সেটা চিহ্নিত করুন এবং সেটা নিয়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করুন। কিন্তু আউটরাইট রিজেক্ট করার মতো- এই যদি করেন, তাহলে আমরা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারব যে, আপনারা এখনো সেই শক্তিকে সমর্থন দিচ্ছেন যে শক্তি গণতান্ত্রিক নয়, গণতন্ত্রের বাইরে অবস্থান যাদের।

“সরকারকে আহ্বান জানাতে চাই, আসুন সত্যিকার অর্থে দেশনেত্রীর যে প্রস্তাব, সেই প্রস্তাবটাকে ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে সংলাপ করুন। বিরোধী দলকে ডাকুন, কথা বলুন, সমস্যা সমাধান করুন।”

দেশে অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়ন চলছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষ এখন ‘মুক্তি’ চায়, তারা ‘সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ দেখতে চায়।

সাধারণের চোখ দিয়ে সমস্যার দিকে তাকিয়ে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান ফখরুল। তা না হলে পরিণতি শুভ হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের মানুষকে কিছুদিনের জন্য দমিয়ে রাখা যায়, চিরদিনের জন্য দমিয়ে রাখা যাবে না এবং এর যে পরিণতি হবে, সেটা কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।”

২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে শুক্রবার বিকালে একটি প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

নির্দলীয় সরকারের অধীনের ভোটের দাবিতে দুই বছর আগে ভোট বর্জন করে সংসদের বাইরে যাওয়া বিএনপি নেত্রী সব দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠনের রূপরেখা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা এবং ‘সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কয়েকটি ধারা সংশোধনেরও প্রস্তাব করেছেন তিনি।

তার ওই প্রস্তাবকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ ও ‘জাতির সাথে তামাশা’ আখ্যা দিয়ে তা নাকচ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  

এর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা জানে যে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন যদি হয় কোনো দিনই তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্যই তারা দেশনেত্রীর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।”

খালেদা জিয়ার এই প্রস্তাবই রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ-মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পত্র-পত্রিকায় তার এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে ছাপিয়েছে, আলোচনা করেছে, লিখছে। বিদেশি যে সংস্থাগুলো রয়েছে এবং কূটনীতিকরা রয়েছেন, তারা এই প্রস্তাব দেওয়াটাকে সমর্থন করেছেন এবং তার প্রশংসা করেছেন।”

খালেদার এই প্রস্তাব সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একমাত্র ভিত্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, “এই ভিত্তিটাকে নিয়ে এগোনো যেতে পারে।”

তবে এই প্রস্তাবই চূড়ান্ত নয়, এটা বিভিন্ন বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমানের ৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

গত আট বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে লন্ডনে বসবাসরত দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ছাড়াও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও দোয়া মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠান করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

বক্তব্যে তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের নেতার এই জন্মদিনে আমরা এই শপথ গ্রহণ করি- আমরা এই অন্যায় দূর করব, এই ফ্যাসিবাদ হটাব, যে সরকার মানুষের বুকের ওপর জগদ্দল পাথর হয়ে বসে আছে, সেই পাথরকে আমরা সরাব। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব- সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করি- এই আহ্বান জানাচ্ছি।”

তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, “আমরা কি এভাবেই বছরের পর বছর তারেক রহমানের জন্মদিন তাকে ছাড়া করব, না তাকে নিয়ে করব? নিশ্চয় আমরা তাকে নিয়ে জন্মদিন করতে চাই।

“শুধুমাত্র ‘তারেক রহমান আসবে দেশে, বীরের বেশে’- এটা মিছিল করে বললে লাভ হবে না। সেজন্য দেশে সেই পরিস্থিতি, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারেক রহমান দেশে আসতে পারে।”

তারেকের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মওদুদ আহমদ বলেন, “আমাদের দেশের প্রায় ৩০ বছরের নিচে যারা তাদের সংখ্যা হলো ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ। এই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। তাকেই আগামী দিনে নেতৃত্ব দিতে হবে। ইনশাল্লাহ খুব শিগগিরই তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। একদিন অবশ্যই আমাদের শুভদিন আসবে।”

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বক্তব্য রাখেন।
 

রাজনীতি এর আরো খবর