বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
logo
খালেদার শি দর্শন জনগণের জন্য বিশেষ বার্তা: বিএনপি
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১৬:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

শি জিনপিংয়ের সফরে শুক্রবার তার সঙ্গে দেখা করেন খালেদা জিয়া

রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের বিরোধী দলকে গুরুত্ব না দিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখা দিয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছে বিএনপি।
দুদিনের সফর শেষে শনিবার সকালে চীনা প্রেসিডেন্টের বিদায়ের পর দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই মত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “চীন জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে। আপনারা দেখেছেন যে, রাষ্ট্রপতিরা একটা দেশে আসলে সরকারি ও বিরোধী দলের সাথে কথা বলেন। আর বিরোধী দলকে স্বীকৃতি দেয়- সেই বিরোধী দল, যারা পার্লামেন্টে আছে।
“এটা পরিষ্কারভাবে এদেশের জনগণকে চীনের প্রেসিডেন্ট এই মেসেজ (বার্তা) দিয়ে গেলেন যে, এই পার্লামেন্ট (দশম) যেহেতু নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়, এই পার্লামেন্টে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি বা বিরোধী দল নেই। সেজন্য বিরোধী দলকে মহামান্য চীনের রাষ্ট্রপতি কোনো গুরুত্ব দিলেন না। দিলেন কাকে? দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
“অতএব এটাও আমরা মনে করি যে, চীনের মহামান্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বার্তা বা ইশারা এই দেশের জনগণের জন্য দিয়ে গেছেন।”
চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুক্রবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হোটেল লো মেরিডিয়ানে দেখা করেন।
৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি(জাগপা) উদ্যোগে ‘চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর: ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন বার্তা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
সভায় খন্দকার মোশাররফ বলেন, শি জিনপিং এদেশের জনগণকে এই বার্তা দিয়ে গেছেন, বাংলাদেশের যে কোনো সংকটে জনগণের পাশে চীন আছে। এদেশের জনগণ যাতে করে নিজপায়ে দাঁড়িয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য চীন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের পাশে আছে।”
চীনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষা করবে বলে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ।
‘এক চীন নীতি’র পক্ষে দলের অবস্থান তুলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আমরা এক চীন নীতির সমর্থক। হংকং আজকে চীনের সাথে যুক্ত হয়েছে কোনো রকমের ঝগড়া-বিবাদ কিছু ছাড়াই। যেহেতু চীন সহাবস্থানে বিশ্বাস করে, তার জন্য ম্যাকাও এবং হংকং স্বেচ্ছায় চীনের মূল ভূ-খণ্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে।
“তাইওয়ান এখনো চীনের মূল ভূ-খণ্ডের সাথে যোগ দেয়নি। আমরা আশা করি, তারাও এই মূল ভূ-খণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে চীনকে আরও শক্তিশালী করবে।”
চীন ‘আধিপত্য ও সম্প্রসারণ নীতিতে বিশ্বাসী নয়’ মন্তব্য করে বিএনপি চীনের নীতিকে সমর্থন করে বলে তিনি জানান।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, “আমাদের সরকারের সময় প্রস্তাব ছিল, এশিয়ান হাইওয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে ৩৭ কিলোমিটার নতুন রাস্তা করে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীনের হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত হয়ে গোটা পশ্চিম এশিয়ার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলব। চীন এতে সমর্থন করেছিল। আমরা এ ব্যাপারে কাজে অগ্রসর হয়েছিলাম।
“আমরা আশা করি, চীন এই ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে এবং চীনের সাথে কানেকটিভিটির জন্য এই সিল্ক রোডকে বাস্তবায়ন করবে।”
চীন সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাগপা সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আমিনুর রহমান ও আসাদুর রহমান খান বক্তব্য দেন।
 

রাজনীতি এর আরো খবর