বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
বুধবার জামায়াতের হরতাল
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:৪৮:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর রায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বহাল রাখার প্রতিবাদে বুধবার হরতাল ডেকেছে দলটি।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে পাঠানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এম. আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
পাঠকদের জন্য হুবহু সেই বিবৃতি তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী অর্থনীতিবিদ, সমাজ সেবক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনিসহ আটক সকল জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচী ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান আজ ৩০ আগস্ট,২০১৬ নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
“সরকার পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে একের পর এক হত্যা করছে। সরকারের সেই ষড়যন্ত্রের শিকার জনাব মীর কাসেম আলী। সরকার তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে জনাব মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।
মাননীয় আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে আজ ৩০ আগস্ট তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের রায় ঘোষণা করেছেন। এ রায়ে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জনাব মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে সরকারের আনীত অভিযোগের সাথে তার কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতাও নেই। সরকার পক্ষ আদালতে জনাব মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যে সব ডকুমেন্ট দাখিল করেছেন সেখানে জনাব মীর কাসেম আলীর নাম নেই। অভিযোগে ঘটনার স্থান, সময় এবং যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সরকারের দাখিল করা ডকুমেণ্ট অনুযায়ী ঐ সময়ে জনাব মীর কাসেম আলী ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন। জনাব মীর কাসেম আলী তার ঢাকায় অবস্থানের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তাতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগ সংঘটিত হওয়ার সময়ে জনাব মীর কাসেম আলী ঢাকায় ছিলেন, চট্টগ্রামে ছিলেন না। চট্টগ্রামের ঘটনাস্থলে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকার পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ব্যবস্থা করেছে। জনগণ সরকারের দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রায় গ্রহণ করেনি।
সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করেছে দেশে-বিদেশে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাগণ বিভিন্ন সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের লক্ষ্য করে যে বক্তব্য রেখেছেন তা আদালতের ওপর এক নগ্ন চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয় বলে দেশের জনগণ মনে করে। সরকারের প্রভাবে জনাব মীর কাসেম আলী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তার পরিবার-পরিজন মনে করেন। ট্রাইবুনালের বিচার থেকে শুরু করে রিভিউ পর্যন্ত এ মামলার বিভিন্ন স্তরে সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য অবাঞ্ছিত ভূমিকা পালন করা হয়েছে। সরকারের এ ভূমিকা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দেশবাসী অবগত আছেন যে, সরকারী পৃষ্ঠপোকতায় শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ স্থাপিত হওয়ার পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ‘সমাবেশের দাবি বিবেচনায় নিয়ে রায় দেয়ার’ জন্য বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। মাননীয় আপীল বিভাগের রায়ের পূর্বে সরকারের দুইজন মন্ত্রী জনাব মীর কাসেম আলীর মামলা নিয়ে বেআইনী বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে জন্য মাননীয় আদালত তাদের শাস্তি দিয়েছিলেন।
জনাব মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও তিনিসহ জামায়াতের আটক সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩১ আগস্ট বুধবার সারা দেশে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করছি।
ঘোষিত এ কর্মসূচী সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা এবং কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ ও পেশাজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা দেশের আপামর জনতার প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিঃ দ্রঃ এ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, হজ্জ্বযাত্রীদের বহনকারী যানবাহন ও সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

রাজনীতি এর আরো খবর