রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯
logo
জিয়ার স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার হবে আত্মঘাতী
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট, ২০১৬ ১৯:২৫:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার হলে এটা আত্মঘাতী ও দুর্ভাগ্যজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ফখরুল বলেন, “ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে রাজনীতি করছে, তাতে তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আজকে যারা গায়ের জোরে নোংরাভাবে জিয়াউর রহমানের কীর্তি মুছতে চাইছেন, তারাই একদিন মুছে যেতে পারেন।”
ফখরুল বলেন, “স্বাধীনতা পদক প্রবর্তন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এখন তিনি বাদ যাবেন, তার সম্মান থাকবে না কিন্তু তার কীর্তি থাকবে।”
দুটি দৈনিক পত্রিকায় শুক্রবার প্রকাশিত খবরে জিয়ার স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়েই দলটি সংবাদ সম্মেলন করে।
বিএনপি নিজস্ব কোনো উৎস থেকে এ–সংক্রান্ত কোনো খবর পেয়েছে কি না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা মোটামুটি জেনেছি, মন্ত্রিসভা কমিটিতে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে গোটা জাতি বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা–পরবর্তী সরকার তার অবদানের জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও জিয়াউর রহমানকে তখন থেকেই চেনে।”
ফখরুল বলেন, “বিএনপি ২০০৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক হিসেবে স্বাধীনতা পদক দেন। এটা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরম ঔদার্যের দৃষ্টান্ত।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ এই পদক প্রদান করা হয়ে আসছে। এই পুরস্কার জাতীয় জীবনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের নাগরিক এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ব্যক্তির পাশাপাশি জাতীয় জীবনের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনন্য উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহকেও এই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।
প্রত্যেক পদকপ্রাপ্তদের একটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ নির্মিত ৫০ গ্রাম ওজন বিশিষ্ট মেডেল, একটি সম্মাননাসূচক প্রত্যয়নপত্র এবং সম্মাননা স্বরুপ নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রদানকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার ছিল, তবে ২০১৩ সালে থেকে দুই লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়ে অসছে।

রাজনীতি এর আরো খবর