রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯
logo
নতুন কমিটি নিয়ে জিয়ার কবরে খালেদা
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:১৩:৩১
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সোমবার বিকালে নবগঠিত স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা কাউন্সিল ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে যান তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সাড়ে চার মাস পর ৬ আগস্ট ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৭ জনের নাম ঘোষণা করে বিএনপি।
এছাড়া ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ৫০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটির নাম ঘোষণা করা হয় ওইদিন।
অবশ্য  পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পরই বিএনপির প্রথম সারির কয়েকজন নেতা সমালোচনামুখর হন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ১/১১ এর কথিত সংস্কারপন্থিরাই গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন এই কমিটিতে।  
সোমবার বিকালে নতুন কমিটি দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে যাবেন জেনে নেতাকর্মীদের অনেকেই সেখানে হাজির হন।
এ সময় কবর প্রাঙ্গণের দেয়ালে বিশাল আকারের জাতীয় পতাকা ও বিএনপির পতাকা টানানো হয়।
এদিন জিয়াউর রহমানের কবরে গত এক বছরের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়।
বিকাল সোয়া ৫টার দিকে খালেদা জিয়া পৌঁছুলে নেতা-কর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। কর্মীদের ভিড় ডিঙিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে নিয়ে যেতে নিরাপত্তাকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়।
খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নবগঠিত স্থায়ী কমিটির নয় জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এরা হলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আসম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী।
নতুন কমিটির সদস্যের মধ্যে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে, আবদুল মঈন খান যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আর সালাহউদ্দিন আহমেদ অনুপ্রবেশের মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে শিলংয়ে অবস্থান করছেন।
এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, শাহজাহান ওমর, মোহাম্মদ শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান খান আজাদ, আমানউল্লাহ আমান, আনহ আখতার হোসেইন, জয়নুল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, অধ্যাপিকা তাজমেরী ইসলাম, কাজী আসাদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, নাজমুল হক নান্নু, আফরোজা খান রীতা প্রমুখ ছিলেন।
যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকনসহ নবগঠিত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আগে দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে বলে তার আশা।
তিনি বলেন, “দেশনেত্রী যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচিত করেছেন, সেই কমিটিকে নিয়ে আজ তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। এখান থেকে নতুন কমিটি শপথ নিয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
২১ অগাস্টের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “বরাবরই আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যারা একসময়ে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছে, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছে, তারা আজকে সম্পূর্ণভাবে একনায়কতন্ত্র এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে চলেছে।
“তারা এখানে কোনো ‍হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করেনি। সুষ্ঠু বিচার করেনি দেখেই আজকে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে। আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন, যে ক্রসফায়ার ও গান ব্যাটেলে কথা বলে কোনো বিচার ছাড়াই মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ঠিক একইভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাদের দলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে জড়িত করা হয়েছে।”
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে সুন্দরবনকে বিনষ্ট করে, পরিবেশকে দূষিত করে, রামপালে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যে কথা চলছে, আমরা এর বিরোধিতা করি।
“আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ আমাদের দরকার। তবে সেটা অবশ্যই আমার সুন্দরবনে বাদ দিয়ে করতে হবে, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে।”
 

রাজনীতি এর আরো খবর