বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
পুলিশি নির্যাতন: ছাত্রলীগ নেতা রনির চোখ নষ্ট প্রায়
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:১৩:০৬
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: ১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময় পুলিশি নির্যাতের শিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আমান উল্লাহ সরকার রনির একটি চোখ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি ডান চোখে প্রায় ৭৫ ভাগ দেখতে পান না।
ঘটনা ২০০৭ সালের। ওই বছর ২০ আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলাকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হামলার পরে ঢাবিসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতিবাদ জানিয়েছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের যে আন্দোলন হয়েছিল তার নেতৃত্বের অগ্রভাগে ছিলেন রনি।
আন্দোলনের সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের পুলিশের নির্যাতনের শিকার হক রনি। মারাত্মকভাবে আঘাত পান তার ডান চোখে। সেসময় আহত অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দেয়া হয় হত্যা মামলা। সেসময় চার মাস ১৫ দিন জেলে থাকতে হয় রনিকে। ফলে চিকিৎসার অভাবে চোখের ক্ষতি আরো মারা—ক আকার ধারণ করে। যে যন্ত্রনা তাকে এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমান উল্লাহ সরকার রনি বলেন, স্বপ্ন পূরণের আশায় যখন সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি তখনই এতবড় একটা আঘাত আসলো। যা এখনো আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমি এখন আমার ডান চোখে প্রায় ৭৫ ভাগ দেখতে পাই না। ডাক্তারদের পরামর্শ উন্নত চিকিৎসা। কিন্তু এমনিতেই মিথ্যা মামলা ও চোখের চিকিৎকার কারণে অনেক অর্থ ব্যায় করতে হয়েছে।
ওই ঘটনার সেদিন রণির সঙ্গে আরো গ্রেফতার করা হয়েছিল- তৎকালীন ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন অর রশিদ, রাবির সাবেক ভিসি ও আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. সাঈদুর রহমান খান, রাবির শিক্ষক প্রফেসর আব্দুস সোবহান, রাবির বর্তমান প্রো-ভিসি সারওয়ার জাহান সজল। সেদিন ৮ শিক্ষকের সঙ্গে একমাত্র ছাত্র রনিকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, আমান উল্লাহ সরকার রনি ২০০৭ সালে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হন।
 

রাজনীতি এর আরো খবর