শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
logo
কমিটি নিয়ে চাপে খালেদা
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০৯:১০:০২
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: ঘোষিত নির্বাহী কমিটি নিয়ে চাপে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পদে থেকেও অখুশি থাকা নেতাদের নানামুখী তত্পরতায় বিরক্ত তিনি। আবার পদবঞ্চিত একটি ক্ষুদ্র অংশও বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপি-প্রধানকে চাপ প্রয়োগ করছেন। এরই মধ্যে অনেকেই বিএনপি-প্রধানের সঙ্গে দেখাও করেছেন। নির্বাহী কমিটিতে নাম না থাকার বিষয়টি কেউ কেউ তুলে ধরলে এতে বিস্ময় প্রকাশও করেন বেগম জিয়া। সময়মতো তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও আশ্বস্ত করা হচ্ছে। জানা যায়, অবমূল্যায়িত ও পদবঞ্চিত নেতাদের বিষয়টি সুরাহা করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনে এ পর্যন্ত তিনজন পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ গতকাল পদত্যাগ করেন ১৯৯৪ সালের বিতর্কিত মাগুরা উপনির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রভাবশালী সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল। কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম পদত্যাগ করেন। অনেক নেতা নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়ে গণমাধ?্যমে মুখ খুলেছেন। জানা যায়, স্থায়ী কমিটিসহ শূন্যপদগুলো শিগগিরই পূরণ করা হবে। নির্বাহী কমিটিতে নতুন কিছু সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এক নেতার এক পদ বাস্তবায়ন করলেই বেশ কিছু পদ শূন্য হবে। বিশেষ করে জেলা নেতাদের মধ্যে যারা সম্পাদক বা সহ-সম্পাদক পদ পেয়েছেন, তাদের এক পদে রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে জেলায় কিছু পদ শূন্য হবে। একইভাবে বিএনপির মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপকমিটিতেও সম্পাদক, সহ-সম্পাদক ছাড়াও দেড় শতাধিক নেতাকে যুক্ত করা হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কমিটিই শতভাগ ঠিক হয় না। কিছু ভুলত্রুটি থাকেই। ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকবেই। ছোটখাটো কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করার সুযোগ থাকে। দলের গঠনতন্ত্রে তা চেয়ারপারসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই বিষয়টি দেখবেন। আমি মনে করি, বিএনপির কমিটি এখন বড় সমস্যা নয়। দেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতি। গণমাধ্যমের উচিত, সে বিষয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। এদিকে, বিভিন্ন পদে প্রায় অর্ধশত নেতা মূল্যায়িত না হওয়ায় পদত্যাগের চিন্তাভাবনা করছেন। আবার শ্রেণিবিন্যাস ঠিকমতো না হওয়ায় দলের বড় একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। পুরো কমিটিকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা না হলে ভাঙনের শঙ্কাও দেখছেন কেউ কেউ। কমিটিতে অবমূল্যায়িত হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, ফজলুল হক মিলন, গোলাম আকবর খোন্দকার, মশিউর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূইয়া, নাদিম মোস্তফা, ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন, আবদুল লতিফ জনিসহ অর্ধশত নেতা। এর মধ্যে গুটিকয় নেতার ওপর বিএনপি-প্রধান চরম ক্ষুব্ধ। তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ডকুমেন্ট বেগম জিয়ার কাছে রয়েছে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, কিছু নেতাকে মূল্যায়ন করা হলে কমিটি নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ২১ বা ২৩ করা যেতে পারে। দুটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। ওই দুটি পদও পূরণ করা উচিত। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপকমিটি ও অবশিষ্ট শূন্যপদগুলোও পূরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটিও দেওয়া জরুরি। এতে তরুণ নেতাদের বড় অংশই যুক্ত করা যাবে। গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, কমিটির নানা অংশে অবমূল্যায়িত হওয়া নেতাদের নিয়ে ভাবছেন বেগম খালেদা জিয়াও। লন্ডনে অবস্থানরত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বঞ্চিততের যুক্ত করার ব্যাপারে বেগম জিয়াকে পরামর্শ দিচ্ছেন। পদবঞ্চিত কয়েকজন নেতা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের কমিটিতে না থাকার বিষয়টি জানান। তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কমিটিতে কিছু পুনর্গঠন করা হবে। ওই সময় সবাইকে সম্পৃক্ত করা হবে। একইভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের পৃথক নামের তালিকা বেগম জিয়ার কাছে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ার পরও খুশি হতে পারেননি মশিউর রহমান। ঝিনাইদহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা আশা করেছিলেন তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হবে। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে এর বহিঃপ্রকাশ যে কোনো সময় ঘটতে পারে বলে একাধিক বিএনপি নেতা জানান। একই অবস্থা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকারের ক্ষেত্রেও। চট্টগ্রামের নেতা-কর্মীরা আশা করেছিলেন তার নিশ্চিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। কিন্তু তাকেও নিষ্ক্রিয় পদ উপদেষ্টায় রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ তার সমর্থকরা। ওই পদ ছাড়ার চিন্তা করছেন গোলাম আকবর খোন্দকারও। বঞ্চিত বা অবমূল্যায়িত নেতাদের প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় জানান, ওয়েট অ্যান্ড সি। সব ধরনের সুযোগ আছে। আজকে যিনি সদস্য হয়েছেন, তাকে সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, আবার যিনি সম্পাদক আছেন তাকে রাখতে হবে— এও কিন্তু গঠনতন্ত্রে বলা নেই। কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ও সরিয়ে নেওয়া নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ। গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনকে এখতিয়ার দেওয়া আছে। আমি পদ পেয়ে গেলাম, এখন ঘরে ঘুমিয়ে থাকব বা ৯২ বছরের লিজ পেয়ে গেলাম, খাজনা না দিলেও চলবে— এমনটা নয়। যেমন অবমূল্যায়নের কারণ আছে সেখানে মূল্যায়নেরও কারণ আছে। যে কারণে মূল্যায়ন করা হয়েছে তাতে যদি তিনি দায়িত্ব কন্টিনিউ না করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। নবঘোষিত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, কমিটিতে এক নেতার এক পদ কার্যকর হলেই কিছু পদ শূন্য হবে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাই সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকের পদে রয়েছেন। তাদের এক পদ রেখে বাকিগুলো ছাড়তে হবে। সেখানেও কাউকে যুক্ত করা যেতে পারে। বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিতেও বেশ কিছু নেতা যুক্ত হবেন। এর পরও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কমিটি দেওয়াও বড় সফলতা হিসেবেই দেখতে হবে।
পদত্যাগ করলেন কাজী কামাল : ১৯৯৪ সালের বিতর্কিত মাগুরা উপনির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনিও জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার আসামি। বিতর্কিত লোকদের স্থায়ী কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাওয়া এই ‘ইকোনো কামাল’। তিনি জিকিউ গ্রুপের কর্ণধার। বেগম জিয়ার কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রের কপি গতকাল মাগুরায় কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে পাঠান জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি। পদত্যাগপত্রে কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ‘বিতর্কিত’ ব্যক্তিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, স্থায়ী কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে নিজের ‘মানসম্মান ক্ষুণ্ন’ করে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই তিনি কমিটি থেকে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
 

রাজনীতি এর আরো খবর