মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
logo
জামায়াতের ঔদ্ধত্য সহ্য করা যায় না
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট, ২০১৬ ১০:০০:২০
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: জামায়াত নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের করা মন্তব্যে দলটির দেয়া প্রতিক্রিয়াকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
তিনি বলেছেন, ‘ওই রকম একজন প্রবীণ মানুষের (এমাজউদ্দীন) একটি মন্তব্যকে ওইভাবে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাদের এ ধরনের ঔদ্ধত্য সহ্য করা যায় না।’
শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী।
প্রসঙ্গত, গত ২ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক মতবিনিময় সভায় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দল বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে হয়। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতাসীন দল ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বিরোধী দল, রাজনৈতিকভাবে না হলেও দেশের বিরোধী দল বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, ২০ দলের মধ্যে অন্ততপক্ষে এই দলটিকে আর ওইভাবে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বুঝতে পেরেছেন, ওই দলটিকে রাখলে যে লায়াবিলিটি আসে সেটা তিনি বহন করতে চান না। সুতরাং এই দিক থেকে দেখলে প্রতিবন্ধকতা (জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে) নেই।’
ড. এমাজউদ্দীনের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার দেয়া বক্তব্যে বিস্ময়, ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয় জামায়াতে ইসলামী।
বিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘আমরা এমাজউদ্দীন সাহেবের সম্মানের দিকে লক্ষ্য রেখে স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, ২০ দলীয় জোট এমাজউদ্দীন সাহেবকে জোটের কোনো মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। জোটের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলার অধিকার তার নেই। তিনি সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত ও অযাচিত আচরণ করছেন। এর জন্য অবশ্যই তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় জনগণ ধরে নিতে বাধ্য হবে, তিনি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আলো ও অন্ধকারের খেলায় লিপ্ত রয়েছেন।’
ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপির ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’ হিসেবে দল ও দলটির নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবেও পরিচিত। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি খালেদা জিয়াকে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে তিনি বিএনপির সরাসরি কোনো পদে নেই। কিন্তু খালেদা জিয়া তার পরামর্শকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
তবে এমাজউদ্দনের বক্তব্য বিএনপি নয় বলে খারিজ করে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের প্রখ্যাত একজন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ যে মতামত ব্যক্ত করেছিলেন তারপরে জামায়াতের ঔদ্ধত্য সহ্য করা যায় না। যদিও এমাজউদ্দীন সাহেব বিএনপির কেউ নন-মর্মে জামায়াত যে কথা বলেছে, ধ্রুব সত্য কথা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বলেছেন, বিএনপিতে (জামায়াতকে ত্যাগ করা নিয়ে) কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- এটাও অবধারিত সত্য কথা। কিন্তু রুচি যা বলে তাতে ওইরকম একজন প্রবীণ মানুষের (এমাজউদ্দীন) একটি মন্তব্যকে ওইভাবে উড়িয়ে দেয়া যায় না, কিন্তু দেয়া হচ্ছে। সে কারণে দেশে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনে ওই দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এবং বিএনপির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ করছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎ করতে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

রাজনীতি এর আরো খবর