মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০
logo
বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি আবির্ভাবের ইঙ্গিত নিলুর
প্রকাশ : ২৮ জুন, ২০১৬ ১০:০০:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা : জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আগামীতে ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির’ আবির্ভাব ঘটবে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে এনডিএফ আয়োজিত ইফতারপূর্ব আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
‘বিএনপি নেতারা মিথ্যা কথা বেশি বলেন’ উল্লেখ করে নিলু বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপি জোটের ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল। এটা বলায় বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বিএনপি জোট থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে জোটের সংখ্যাতত্ত্ব ঠিক রাখতে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে আরেকটি এনপিপি সৃষ্টি করে সেটিকে জোটে রেখেছিলেন তিনি।’
খালেদা জিয়ার কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে সৃষ্ট সেই এনপিপি এখন কোথায়? সেটার আর অস্তিত্ব নেই।’
প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ‘অবিভক্ত’ এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু। এছাড়া তখন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এনপিপির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়া বিএনপি জোটের জন্য ‘মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল।’ জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় জোটে অসন্তোষের প্রেক্ষিতে নিলুকে বিএনপি জোট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর চেয়ারম্যান নিলু ও মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে এনপিপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফরহাদ তখন এনপিপির একাংশের চেয়ারম্যান হন। ওই সময় তড়িঘড়ি করে ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বাধীন এনপিপিকে বিএনপি জোটে রেখে জোটের সংখ্যাতত্ত্ব ঠিক রাখা হয়।
গত ১৯ জুন রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধান অতিথি করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ফরহাদের নেতৃত্বাধীন এনপিপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নিলুর নেতৃত্বাধীন ‘মূল’ এনপিপির আবেদনে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ওই ইফতার মাহফিল বাতিল হয়ে যায়।
ইফতারে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে আগামীতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব হচ্ছে জানিয়ে নিলু বলেন, ‘এই মঞ্চে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব (মুফতি মো. ফয়জুল্লাহ) আছেন, মরহুম মুফতি আমিনীর ছেলেও (ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আমিনী) উপস্থিত আছেন। এছাড়া আমাদের জোটের নেতারা আছেন। এই মঞ্চে উপস্থিত জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীরাই আগামীতে নেতৃত্ব দেবে, ইনশাআল্লাহ।’
এনডিএফ’র ইফতারে অংশ নেয়া ইসলামী ঐক্যজোটও অতীতে বিএনপি জোটের সঙ্গে ছিল। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি করতে গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জোটের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনে বিএনপি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ‘মূল’ ইসলামী ঐক্যজোট। এ ঘটনার পরে ওইদিন বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ইসলামী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রাকিব। সেখানে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে লতিফ নেজামীরা আর ইসলামী ঐক্যজোটে নেই’ দাবি করে নিজেকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেই রয়েছে।’
এনডিএফ মহাসচিব আলমগীর মজুমদারের সঞ্চালনায় ইফতারে আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এ টি এম হেমায়েত উদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের মহাসচিব সেকেন্দার আলী মনিসহ এনডিএফ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।
এদিকে গত ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে একান্ত বৈঠক করেন শেখ শওকত হোসেন নিলু। বৈঠক শেষে নিলু নিজেই বাংলামেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
এ সময় এনডিএফ’র ইফতার মাহফিলে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান নিলু। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘ইফতারে তার পক্ষে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে।’ তবে আজকের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কেউই উপস্থিত ছিলেন না।

রাজনীতি এর আরো খবর