বুধবার, ২৭ মে ২০২০
logo
গণজাগরণ মঞ্চ অনেক উল্টাপাল্টা কাজও করেছে
প্রকাশ : ২৮ মে, ২০১৬ ২০:০২:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ প্রথম দিকে ভালো থাকলেও শেষ দিকে অনেক ‘উল্টাপাল্টা’ কাজও করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা নূহ উল আলম লেনিন।
 
শনিবার ঢাকা ক্লাবে ‘আবদুল কাদের মোল্লা: যুদ্ধাপরাধ বিচার ও ফাঁসি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বইটি লিখেছেন সৈয়দ জাহিদ হোসেন ও সোনিয়া হক। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ওয়ার ক্রাইম ফাইন্ডিংস ফ্যাক্টস কমিটির সভাপতি ড. এমএ হাসান প্রমুখ।
 
লেনিন বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের শুরুর দিক থেকে আমি এদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পর তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা সম্ভব হয়েছিল। যে কারণে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের মাধ্যমে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।’
নূহ উল আলম লেনিন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘এ সংগঠন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কারণ গণজাগরণ মঞ্চ সবকিছু যে ভালো করেছে তা নয়। শেষ দিকে তারা অনেক উল্টাপাল্টা কাজও করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কি তাদেরকে বলেছিলাম পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে গিয়ে বেআইনি জমায়েত করতে? তারা শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে অনেক স্পর্ধামূলক কথাও বলেছে।’
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে প্রথমবারের মতো তরুণ প্রজন্মের সমাবেশ ঘটেছিল, পরে যার নাম হয় গণজাগরণ মঞ্চ। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সে সময় শাহবাগে লাগাতার অবস্থান নেয় তরুণরা। তাদের দাবির মুখেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে সংসদে বিল পাস হয়। এরপর তারা লাগাতার অবস্থান থেকে সরে এসে ঘোষণা দেয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ের আগের দিন থেকে শাহবাগে অবস্থান নেবে।
যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। এরপর ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর তাকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয় ইসলামাবাদ।
এর পাল্টা জবাবে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মৌসুমী রহমানকে ফেরত নেয়ার আহ্বান জানায় পাকিস্তান সরকার। তবে বাংলাদেশি ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেখাতে পারেনি তারা। মৌসুমী রহমানকে ইসলামাবাদ থেকে অন্য দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়।
এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানায় গণজাগরণ মঞ্চ। তবে সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ না করায় ঢাকায় দেশটির হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচির ঘোষণা দেয় তারা। গত ২০ জানুয়ারির এ কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। গণজাগরণ মঞ্চের বেশ কয়েকজন কর্মী পুলিশের লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হয়।

রাজনীতি এর আরো খবর