মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
logo
ওসমান পরিবার, আলীগ, জাপা ও হেফাজত
প্রকাশ : ২৪ মে, ২০১৬ ১৩:৫৪:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার আলোচনায় থাকে৷ এতদিন আলোচনায় ছিলেন শামীম ওসমান, উঠে এসেছেন তার ভাই সেলিম ওসমান৷ দেশের রাজনীতিতে হেফাজতকেও আলোচনায় ফিরিয়েছেন তিনি৷
ওসমান পরিবারকে নিয়ে আলোচনাটা এতদিন বহুলাংশে সন্ত্রাসীদের মদত দেয়া, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো ইত্যাদি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল৷ এবার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে, অপমানিত করে আলোচনায় এসেছেন সেলিম ওসমান৷
নারায়ণগঞ্জে এখন আর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা কট্টর ইসলামপন্থি দল হেফাজত আলাদা কিছু নয়৷ এক ভাই আওয়ামী লীগের এমপি, আরেকভাই জাতীয় পার্টির এমপি৷ এখন তাদের সঙ্গে যোগ হলো হেফাজতে ইসলাম৷
বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে এখন আওয়ামী লীগ, জাপা ও হেফাজত মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে৷ এই পরিবারের কাছেই জিম্মি পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী৷ স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার কোনো সুযোগ নেই৷ অতীতে সাংবাদিক পিটিয়েও আলোচনায় এসেছে এই পরিবার৷ অনেকটা আতঙ্কের মধ্যেই সাংবাদিকতা চলছে নারায়ণগঞ্জে৷
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ও কবি হালিম আজাদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, “শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা নিয়ে যখন দেশবাসী সোচ্চার তখন নারায়ণগঞ্জে ভিন্ন চিত্র৷ এখানে ওসমান পরিবারের পক্ষে হচ্ছে আন্দোলন৷ যারা দেশের স্বাধীনতা মানে না, পতাকা মানে না এমন কট্টরপন্থি হেফাজত ইসলাম মাঠে নেমেছে তাদের পক্ষে৷”
হালিম আজাদ বলেন, “ক'দিন আগেও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন সেলিম ওসমান৷ আমাকেও কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়েছে৷ এখানে আসলে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা মুশকিল৷ তারপরও সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি, হবেও না৷”
এদিকে স্কুলশিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমানকে নিয়ে ‘বিব্রত' বোধ করছে জাতীয় পার্টি৷ দলটির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন, “গোটা ঘটনাটা বিব্রতকর৷ জাতীয় পার্টির ইতিহাসে এ রকম ঘটনা নেই৷ দলের কোনো নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে অপমান করেছে – এমন অভিযোগ আমাদের কাছে কখনও আসেনি৷ বিষয়টিতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে৷”
শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সেলিম ওসমানের বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে জি এম কাদের দলের এই অবস্থানের কথা জানান৷
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে একদল লোক মারধর করে৷ পরে তাকে কান ধরে উঠ-বস করান ওই আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান৷
ব্যবসায়ী সেলিম ওসমান, বড় ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টিতে নাম লিখিয়ে সেই আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী হন৷ এর আগে তিনি রাজনীতিতে ছিলেন না৷
নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের নতুন প্রজন্মও বেপরোয়া৷ প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠক রফিউর রাব্বির ছেলে তানভীর মাহমুদ ত্বকী হত্যার অভিযোগ৷ হত্যার অভিযোগ মাথায় নিয়ে সে এখন দেশছাড়া৷ ওসমান পরিবারের ক্ষমতার কারণে পুলিশ এখন ওই হত্যা মামলায় চার্জশিট দিচ্ছে না বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন রফিউর রাব্বি৷
এ মুহূর্তে শামীম ওসমান এবং অয়ন ওসমানকে আড়াল করে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সেলিম ওসমান৷ তার সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেছেন, “তার (সেলিম ওসমান) লজ্জা থাকলে তিনি আর সংসদে যাবেন না৷”
সেলিম ওসমানের বিষয়ে জাতীয় পার্টি কী পদক্ষেপ নেবে – প্রশ্ন করলে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ভাই কাদের বলেন, “সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে৷ ইতোমধ্যে সরকার কমিটি গঠন করেছে৷ আদালতও এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন৷ কমিটির প্রতিবেদন এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি৷ আমরা এর জন্য অপেক্ষা করছি৷ প্রতিবেদন পেলেই দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে৷” –ডিডব্লউ

রাজনীতি এর আরো খবর