বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
logo
নদী দখলকারীরা এ কালের রাজাকার: শাজাহান খান
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৬ ১৬:৩৩:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+
রাজনীতি ওয়েব

ঢাকা: নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, নদী রক্ষায় আমাদের অনেক চিন্তাভাবনা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা অসহায়। যারা নদী দখল করে তারা এ কালের রাজাকার।
শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ‘বেপরোয়া দখলে বিপর্যস্ত আদি বুড়িগঙ্গা ও এর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যেমন রাজাকারদের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ সোচ্চার হয়েছিল আজ এই দখলদারদের বিরুদ্ধে সে রকম সোচ্চার হতে হবে।
অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনগত জটিলতার কারণে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারা যাচ্ছে না।
বক্তব্যের পরে নৌমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে চলে যান।
এরপর সেখানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি সুলতানা কামাল।
এসময় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন তিনি।
সুলতানা কামাল বলেন, যখন ক্ষমতাশালী মানুষেরা বা সরকারের কোনো মন্ত্রী নিজেদের অসহায় বলেন, আমরা সেটা মেনে নিতে পারি না।
কেননা ঢাকা শহরে নির্মমভাবে বস্তি উচ্ছেদ করা যায়। অথচ নদী দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায় না।
আলোচনাসভায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার নদীরক্ষা প্রকল্প তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় শাখাকে হাতিরঝিলের মতো দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চান তারা।
একদিকে কামরাঙ্গীর চর, অন্যদিকে মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, লালবাগ, আমলীগোলা নিয়ে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় শাখা বা আদি বুড়িগঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রকৌশলীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুলতানা কামাল বলেন, ‘নদীকে আমরা ঝিল হিসেবে দেখতে চাই না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও নদীকে হাতির ঝিলে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেন।
গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আদি বুড়িগঙ্গা রক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আলোচনা সভায় স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ইন্সটিটিউট অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক আখতার মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

রাজনীতি এর আরো খবর