রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮
logo
আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগের দাবি জানালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৫৬:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
কক্সবাজার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, চাঁদপুর ওয়েব: আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।পরিদর্শন শেষে  ২ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাদের বলবো তারা যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষ, রোহিঙ্গাদের পাশে আমরা আছি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনসহ মানুষ হিসেবে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিশ্বের সকল মুসলিম দেশের পাশাপাশি দাতা দেশসহ, জাতিসংঘ এবং ওআইসি’র সহযোগিতা নেওয়া হবে।মিয়ানমার সরকার সম্মানজনকভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিলে আমরাও কঠোর হবো বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার সমস্যা সৃষ্টি করেছে, সমস্যার সমাধানও তাদের করতে হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এ দেশে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তাদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশ্রিত সকল রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
 
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গারা এদেশে শরণার্থী হিসেবে অনুপ্রবেশ করেছিল। কূটনৈতিক তৎপরতায় তাদেরকে আমরা সম্মানজনক ভাবে ফেরত পাঠিয়েছিলাম। এবারও তার ব্যতয় ঘটবে না। ধারাবাহিকতায় তাদেরকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার দাতা দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ধৈর্য্য ধারণের আহবান জানিয়ে বলেন, সমস্যা থাকবে, সমাধানও আছে। এদেশে রোহিঙ্গাদের প্রতি সদয় আচরণ করার জন্য সকলের প্রতি আহবানও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে এখানে আশ্রয় দিয়েছি। ১৯৭১সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীও আমাদের উপর এ রকম নির্যাতন করেছিল। তখন আমাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল। তখন আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। রিফিউজি হয়েছিলাম আমরাও।
 
তিনি বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা তারা কষ্ট করে আজ আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে। ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাবার দেই। তার সঙ্গে এরকম আরও ২, ৪, ৫ লাখ লোককে খাবার দেওয়ার মত শক্তি বাংলাদেশের রয়েছে। আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাব।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছে তাতে আমি মর্মাহত। আমি নিজেও স্বজনহারা। স্বজনহারার বেদনা কত যে কঠিন সেটা আমি বুঝি।
 
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন  প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চীফ হুইফ আসম ফিরোজ, হুইফ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি সায়মুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, এমপি আবু রেজা নদভী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
 

জাতীয় এর আরো খবর