শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ ৫ ফেব্রুয়ারি
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৩৭:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব
ঢাকা: নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।

রোববার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্ব আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।

এ সময়ের মধ্যে শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেয়া হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে সকাল ৯টায় পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করে আদালতে শুনানিতে হাজির হওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। কিন্তু গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গেজেট না নিয়েই আপিল বিভাগে হাজির হন। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি গেজেট জারির জন্য আরো এক মাস মৌখিকভাবে সময় প্রার্থনা করেন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, “আমরা আপনার মুখে হাসি দেখতে পাচ্ছি। এই হাসি আনন্দের নাকি কষ্টের? আমাদের মনে হয়, এটি কষ্টের হাসি।”
 

আদালত বলেন, “আপনি মৌখিকভাবে সময় প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু কোনো লিখিত আবেদন আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”
 

এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “আবেদনে কী লিখবো, বুঝতে পারছি না।”

আদালত বলেন, “সরকার আপনাকে কী উপদেশ দিয়েছে, সেটা তো আমরা বলতে পারবো না। আর মৌখিকভাবে যে সময় চেয়েছেন, এটি মঞ্জুর করা যাবে না। লিখিত সময় আবেদন নিয়ে আসুন। আমরা বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট বিষয়ে কোনো ছাড় দেবো না।”

এরপর বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টায় অ্যাটর্নি জেনারেল লিখিতভাবে সময় আবেদন আদালতে দাখিল করেন। পরে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করে দেন।

বিচারকদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে কয়েকবার সময় দেয়ার পরও সরকার গেজেট প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে ১২ ডিসেম্বর তলব করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

দুই সচিব হাজির হয়ে আদালতে জানান, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ-সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ কারণে প্রকাশ করা যায়নি।

পরে শুনানি শেষে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ। রোববার পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুনানি শুরু হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে।

রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেন সর্বোচ্চ আদালত।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী বলে গত বছরের ২৮ আগস্ট শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

জাতীয় এর আরো খবর