বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
জঙ্গিদের থেকে তথ্য বের করা যায় না: আইজিপি
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট, ২০১৬ ১২:৫৯:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা: জঙ্গিদের কাছ থেকে তথ্য বের করা যায় না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দৈনিক আমার কাগজের ১৪তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এক সেমিনার তিনি এ কথা বলেন। ‘জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস দমন: কমিউনিটি পুলিশিং ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি হাজী আলাউদ্দিন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং টঙ্গী এরশাদ নগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা কামাল উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফজলুল হক ভূইয়া রানা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মীর আশফাকুজ্জামান।
কয়েকজন জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, তাদের এমনভাবে মটিভেশন দেয়া হয়, তারা বলে মরে বেহেশতে চলে যাবে, তবু তথ্য দেয় না।
শহিদুল হক বলেন, “তাদের এমনভাবে মটিভেশন দেয়া হয়, বলা হয় যদি জিহাদ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়, তাহলে হাশরের ময়দানে বিচার ছাড়া সরাসরি জান্নাতে চলে যাবে। এভাবে জান্নাতের স্বপ্ন দেখিয়ে জিহাদের নামে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয় তরুণদের।”
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে গ্রেফতার হলে তারা (জঙ্গিরা) বাঁচতে চায় না। বলে আমাদের মেরে ফেলেন, আমরা জান্নাতে চলে যাব..। এতো বুঝানোর চেষ্টা করছি, যে ভুল পথে আছো তোমরা, এটা মানুষের কাছে স্বীকার করো...।”
“তাদের এই যে মটিভেশন, এই মটিভেশনের জায়গায় আমাদের আসতে হবে।” বলেন আইজিপি। তরুণরা কোথায় যাচ্ছে কী করছে সে সম্পর্কে তীক্ষ্ণ নজরদারি করতে বাবা-মায়েদের প্রতি আহ্বান জানান আইজিপি।
রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার পরে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শহিদুল হক। যে যে অবস্থানে আছে, সেখান থেকে জঙ্গিদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, জঙ্গিবাদ কোনো স্থানীয় সমস্যা না। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান, কল্যাণপুর ও শোলাকিয়া হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরী ও ব্লগার হত্যায় সন্দেহভাজন চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হককে ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন আইজিপি। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি শনিবারের অনুষ্ঠানে বলেন, তামিম ও জিয়া যেখানেই থাকুক, কেউ দেখলে বা সন্ধান পেলে যেন সরাসরি পুলিশকে জানায়। প্রয়োজনে যেন তার (আইজিপি) সঙ্গে যোগাযোগ করে। তথ্যদাতাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে। পরিচয় গোপন রাখা হবে।
মূল প্রবন্ধকার তার প্রবন্ধে বলেন ‘‘বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সহজাত সম্প্রীতি আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক  এবং সাংবিধানিক মূল শক্তি। একে বিনষ্ট করবার যেকোন চক্রান্ত জাতিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। জঙ্গি দমনে গ্রামগঞ্জে, শহর-বন্দরে দেশের সকল এলাকায় সকলকে এক প্লাটফর্মে দাঁড় করাতে হবে। শিক্ষক, মসজিদের ঈমাম, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী কৃষক, শ্রমিক, জনতা সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গি দমনে তৎপর হতে হবে।’’ কমিউনিটি পুলিশিং এবং গণমাধ্যম এ কাজে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ কে এম শামীম চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে জনমত গড়ে উঠেছে তা ধরে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে গণমাধ্যম বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে জনগণের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণও পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে।
শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ধর্মীয় আবরণ দিয়ে জঙ্গিবাদ তৈরি হয়েছে। কোন ধর্মই হত্যা সমর্থন করে না। সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিবেক তাড়িত হয়ে ভাল কাজটি করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের গণমাধ্যম এখন পরিপূর্ণ স্বাধীন এবং সক্ষম। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ তাদের জীবনের বিনিময়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যথার্থ দায়িত্ব পালন করছে।
মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধান শুধুমাত্র পুলিশ, সেনা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সম্ভব নয়। এর একটি সামাজিক দিক রয়েছে। এ কাজে সমাজের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে হাজী আলাউদ্দিন বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণমাধ্যমকে আরো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হবে।
ফজলুল হক ভূইয়া রানা বলেন, আমার কাগজ পত্রিকা গত ১৩ বছর ধরে জঙ্গিবাদ, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধের অবক্ষয়, ধর্মান্ধতা, মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। অতীতের ন্যায় আগামীতেও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দেশে সুশাসন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা ত্বরান্বিত করতে পত্রিকাটি কাজ করবে। তিনি এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনারের শুরুতে ১৫ আগস্ট নিহত জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আইজিপি অন্যান্য অতিথিদের সাথে নিয়ে পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন।

জাতীয় এর আরো খবর