শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
জাপানিজ হত্যায় পদ্মাসেতু-মেট্রোরেলের কাজে প্রভাব পড়বে না
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৬ ১৬:০৬:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা : গুলশানের ঘটনায় ৬ বিদেশি জাপানী নাগরিক হত্যার পর পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘মেট্রোরেল রুট-১ এবং মেট্টোরেল রুট-৫, এই দুটি রুটের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে নিতে জাপান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।’
এছাড়া পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল-৬, রুট-১ এবং রুট-৫সহ অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সকল বিদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বে সঙ্গে দেখছেন বলে জানান মন্ত্রী।
সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ঈদে ঘরমুখো এবং কর্মস্থলমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গঠিত মনিটরিং টিমের কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটরা রোধে মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব অটোরিকশাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা আর না ঘটুক, সে দিকে লক্ষ্য রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
এবারের ঈদে সড়কের কোনো ক্রুটি ছিল না। চালকদের দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল আর ওভারটেকিংয়ের কারণেও যানজট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘এবারের ঈদে ঘরমুখো এবং ঢাকায় কর্মমুখি মানুষ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ছিল অধিক স্বস্তির। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নিবিঢ় মনিটনিংয়ে মানুষ নিরাপদে ঈদ-উদযাপন করে ফিরে আসতে পারায় আমরা আনন্দিত।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঈদের আগের দিন একসঙ্গে গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে বিভিন্ন পরিবহনের চাপ পড়ে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন যত্রতত্র চলায়ও যানজটের সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে খবর পেয়ে আমি দ্রুত ছুটে যাই। চন্দ্রা মোড় থেকেই যোগাযোগ করি এবং যানবাহন কমিয়ে আনার চেষ্টা করি। দুপুর নাগাদ যানজট কমে আসে। এছাড়া দেশের সকল-মহাসড়ক ছিল নির্বিঘ্ন। যাত্রীরা অধিকতর স্বস্তি নিয়ে বাড়ি যেতে পেরেছে এবং কর্মস্থলে ফিরে আসছে।’
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘এবারের ঈদের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ঈদে কাজে লাগাতে চাই। আসন্ন ঈদুল আজহার প্রস্তুতিও আমরা শুরু করেছি। আঞ্চলিক সড়কের পাশে গরুর হাট যাতে না বসে সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি।’
উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ছয় জাপানি নাগরিক। তারা বাংলাদেশ সরকারের মেট্রোরেল প্রকল্পের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তারা মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।
১ জুলাই রাতে গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ওই রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় কয়েকজন জঙ্গি। ওই সময় রাতের খাবার খেতে আসা লোকজনকে জিম্মি করে তারা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযান চালায়। ওইদিন রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে বিদেশিসহ ২০ জিম্মির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতেই জঙ্গিদের বোমার আঘাতে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

জাতীয় এর আরো খবর