মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
logo
ফাহিম শিবিরকর্মী
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০১৬ ১৩:১৪:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা : মাদারীপুরে কলেজশিক্ষক হত্যাচেষ্টায় আটকের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফাহিম শিবিরকর্মী বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষকের হত্যা-প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘কলেজ শিক্ষক হত্যা-প্রচেষ্টায় যুক্ত এবং জনগণের হাতে আটক সন্ত্রাসীর পরিচয়, সে একজন শিবিরকর্মী।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত বুধবার মাদারীপুরে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী হত্যাচেষ্টার সময় গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে (২০) হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয় জনতা। শুক্রবার রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সহযোগীদের ধরতে ফাহিমকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার ভোরে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ফাহিম। পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্য ছিলেন।
তবে প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ফাহিম মূলত শিবিরকর্মী ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যায় সিদ্ধহস্ত। এটাই তাদের চরিত্র। তারা জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে যুক্তরাজ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব যুদ্ধাপরাধী লন্ডনে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন তারাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।
তিনি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে লন্ডনে অবস্থানরত বেগম জিয়ার পুত্র এবং বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘একজন কুলাঙ্গার ছেলে, যে লন্ডনে বসে আছে। ব্রিটিশ সরকার কেন তাকে সেখানে জায়গা দিয়েছে জানি না।’
বাংলাদেশে কখনও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের জায়গা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা আহ্বান জানান।
তার সরকার গণমাধ্যমে পরিপূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সুতরাং এই স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে তাদের কিছু দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর ওয়াজেদ, মহাসচিব ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিএফইউজে এবং ডিইউজে’র সদস্যরা ইফতারে অংশ নেন।
ইফতারের আগে সমগ্র দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাতীয় এর আরো খবর