রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
যাদের আয় বেশি তারাই কর দিতে চান না
প্রকাশ : ২৮ মে, ২০১৬ ১৬:২৬:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা : দেশের সাধারণ মানুষরাই কর দেয়। অথচ যাদের আয় বেশি তারাই কেবল কর দিতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
 
শনিবার দুপুরে রাজধানীর আইডিইবি ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
 
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের দেশে করের আওতায় যে পরিমান লোকের থাকা প্রয়োজন সে পরিমান লোক নেই। অন্য সকল দেশে করদাতা অনেক বেশি। আসলে আমরা কর দিতে চাই না। সাধারণ মানুষ অনেকেই কর দেয়। তারা কর দিতে চায়। কর দিতে চায় না তারাই, যাদের আয় বেশি। তাদের হয়তো অপ্রদর্শিত আয় রয়েছে। অথবা এতো বেশি আয় হয়েছে যদি তারা কর দিতে চায় তাহলে তারা ধরা পরে যাবে’।
 
তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। অনেক আলোচনায় এটাকে উচ্চভিলাষী বাজেট বলা হচ্ছে। কিন্তু এটাও সত্য এই বাজেট যদি আমরা না দিতে পারি, তাহলে আমাদের যে উন্নয়ের গতি ধারা ধরে রাখতে পারবো না।’
‘আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জনের হলো যে, গত ৭ বছরে ধরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ ঘরে ছিল। এখন সেই বৃত্ত ভেঙ্গে তা ৭ পর‌্যন্ত উন্নিত করেছি। আমাদের এই প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখতে হলে অবশ্যই কর দিতে হবে এবং করের আওতাও বৃদ্ধি করতে হবে বলে যোগ করেন এই মন্ত্রী।
 
তিনি জানান, আশির দশকে বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর আমাদের বাজেট দিতে হতো। কিন্তু এখন তা কমে ৪ থেকে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটা থেকে সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এজন্যও আমাদের করের পরিধি বাড়াতে হবে। কর আদায় বৃদ্ধি করতে পারলে আমাদের অন্যের উপর নির্ভরতা কমে আসবে।’
 
তিনি নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে বলেন, ‘এই আইন জলদি বুঝে নেয়ার বিষয় নয়। সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারে সেজন্য সভা-সেমিনার-ওয়ার্কশপ অব্যাহত রাখতে হবে। ১৯৯১ সালে আইনের মাধ্যমে যখন ভ্যাটের প্রচলন করা হয়, তখন এটা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি আমরাও বিরোধি দলে থেকে এর বিরোধিতা করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে এই ভ্যাটই রাজস্ব আদায়ে বিশাল ভুমিকা পালন করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেই রকম নতুন ভ্যাট আইন নিয়েও কথা উঠবে। তবে আশা করি এটাতেও জনগন ভালো সুফল পাবে। কেননা এটা পুরোপুরি অনলাইন ভিত্তিক। এখানে কাগজের কোন হিসাব থাকবে না। পুরাতন আইনের সংস্কার হয়েছে। তাই আদান প্রদানের ক্ষেত্রেও সহজ হবে। গ্রামাঞ্চলসহ সারা দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ছড়িয়ে গেছে। তাই নতুন ভ্যাট আইন দেশকে আরো ডিজিটাল করতে সহায়তা করবে।’
 
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন এনবিআর সদস্য (কর) আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (মূসকনীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সদস্য (শুল্কনীতি) সুলতান মো. ইকবাল প্রমুখ।

জাতীয় এর আরো খবর