সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
logo
আবারো গ্যাসের দাম ১৪০% বাড়ানোর প্রস্তাব
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:৫২:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা : দাম বৃদ্ধির সাত মাস পর আবারো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রাহকভেদে গ্যাসের দাম ৬৬ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসিতে পাঠানো হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে দাম বৃদ্ধির এ প্রস্তাবকে আইনিসিদ্ধ নয় বলে তা গ্রহণ না করতে কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সর্বশেষ গত বছরের ২৭ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা ব্যতিত সব ধরনের গ্রাহকের গ্যাসের মূল্য গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়, যা সে বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
পেট্রোবাংলার সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনায় বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবে দাম বৃদ্ধির বিয়ষটি আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকরের জন্য আবেদন করেছে ৬ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর নতুন উদ্যোগকে আইনসিদ্ধ নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিইআরসি আইন অনুসারে একবার দাম বাড়ানোর এক বছরের মধ্যে নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বাড়লে তার সঙ্গে দেশের বাজারের সমন্বয়ের জন্য দাম বৃদ্ধি করা যেতে পারে। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে সেখানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
নতুন প্রস্তাবে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে দুই চুলার (ডাবল বার্নার) এক মাসের বিল ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। আর এক চুলার (সিংগেল বার্নার) মাসিক চার্জ ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকা করতে বলা হয়েছে।
তবে যেসব আবাসিক গ্রাহক মিটার ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর শিল্প কারখানার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২৬ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ঘনমিটার প্রতি গ্যাসের মূল্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা,  কারখানার বয়লারের জন্য ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৭২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে সাড়ে ১৯ টাকা এবং সার কারখানার জন্য ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৪১ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটারের ৩৫ টাকা থেকে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৫৮ টাকা নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা বিদেশি কোম্পানিগুলোর থেকে অধিক দামে গ্যাস কিনছে কিন্তু বিতরণ কোম্পানির কাছে তা কম দামে দিতে হচ্ছে। আর সে কারণেই গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন বলে প্রস্তাবগুলোতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ২০১৭ সাল থেকে নতুন জ্বালানি হিসেবে দেশে এলএনজির ব্যবহার শুরু হতে পারে, এটিও দেশের সার্বিক জ্বালানির মূল্যর ওপর প্রভাব ফেলবে। কারণ দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এলএনজির দাম বেশি পড়বে। মূল্য সমন্বয়ে এ বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে কমিশনকে অনুরোধ করেছে গ্যাস কোম্পানিগুলো।
দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সারকার খানা, শিল্প বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে ৩০ লাখ গ্রাহক গ্যাস সুবিধা ভোগ করছে। এজন্য ২০টি ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পেট্রোবাংলা। এরপরও দিনে ৫০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের ঘাটতি থাকে।
সরবরাহকৃত গ্যাসের ১৩ শতাংশ গৃহস্থালিতে, ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ সিএনজিতে, ১ দশমিক ০৫ শতাংশ বাণিজ্যিকে, ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ ক্যাপটিভ, ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিল্প, চা বাগানে দশমিক ০৯ শতাংশ, বিদ্যুতে ৪০ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং সার কারখানায় ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয়।

জাতীয় এর আরো খবর