মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
logo
দুই মন্ত্রীর সাজা একটি সতর্কবার্তা: সুপ্রিম কোর্ট
প্রকাশ : ২৭ মার্চ, ২০১৬ ১৩:০৯:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা: দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন, আদালত অবমাননার দায়ে মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হককে সাজা দিয়ে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্নের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা দেয়া হয়েছে।
 
রোববার রায় ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা উচ্চ আদালতের বিচারকরা সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করেছি। প্রতিবেদনে (দুই মন্ত্রী যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই অনুষ্ঠান নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন) অনেকের নাম এসেছে। সবার নামে আমরা প্রোসিডিংস ড্র করিনি। প্রকৃতপক্ষে কনটেম্পট নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করতে চাইনি। দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কনটেম্পট প্রোসিডিংস ড্র করা হয়েছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য।”
 
রায়ের পর এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, তাদের অপরাধের মাত্রা ‘এতোই বেশি’ যে ওই আবেদন আদালত গ্রহণ করেননি।
 
কী সেই বার্তা জানতে চাইলে মাহবুবে আলম পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আদালতের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা উচিৎ নয়- এ বিষয়টি যাতে দুই মন্ত্রীর সাজার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বুঝতে পারে- সেই বার্তাই আপিল বিভাগ দিতে চেয়েছে।”
 
এই সাজার পর দুই মন্ত্রী স্বপদে বহাল থাকতে পারবেন কি না-জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। সংবিধানেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা আছে বলে তার জানা নেই। তবে এটা নৈতিকতার সাথে জড়িত।” এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
এর আগে রোববার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আট বিচারপতির আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন।
 
সাত দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে এক সপ্তাহ কারাগারে কাটাতে মন্ত্রী কামরুল ও মোজাম্মেলকে।
 
উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় সামনে রেখে গত ৫ মার্চ এক আলোচনা সভায় রায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চে পুনঃশুনানির দাবি তোলেন মন্ত্রী কামরুল।
 
মন্ত্রী কামরুল বলেছিলেন, “আপিলের শুনানিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের কাজ নিয়ে প্রধান বিচারপতির অসন্তোষ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ‘রায়েরই ইঙ্গিত’ মিলছে।”
 
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতির মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
 
এর তিন দিনের মাথায় রায়েও মীর কাসেমের ফাঁসির রায় বহাল থাকে। ওই রায় ঘোষণার আগে পুরো আপিল বিভাগকে নিয়ে বসে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দুই মন্ত্রীকে তলবের আদেশ দেন।
 
পরে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন কামরুল ও মোজাম্মেল।

জাতীয় এর আরো খবর