মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
logo
সমর্থনের বিনিময়ে হস্ত সম্প্রসারণ করলো জাপান
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ১১:৪১:০৮
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য পদ লাভের জন্য বাংলাদেশের সমর্থন আদায় করার বিনিময়ে নতুন করে ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহয়তা বাড়ানোর বিষয় নিশ্চিত করেছে জাপান। সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঢাকা সফরে নতুন ঋণ সহয়তা বাড়ানোই বাংলাদেশের প্রাপ্তি। এছাড়া ভবিষ্যৎ সহযোগিতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রও এতে সম্প্রসারিত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের দুই প্রকল্পসহ পাঁচটি বড় প্রকল্পে নামমাত্র সুদে বাংলাদেশকে ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার ( ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার) ঋণ অনুমোদন দিয়েছে জাপান। জাইকার মাধ্যমে এ ঋণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবের সফরসঙ্গী জাইকার প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
বরাবরের মতো জাইকার এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হচ্ছে ০ দশমিক ০১ শতাংশ, যা ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (সুদবিহীন সময়) ৪০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ। এ নির্বাচনে জাপানকেই সমর্থন দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাপান প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ সালের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য পদে লড়াই করার কথা ছিল বাংলাদেশের। একই পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করে জাপানও। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরেও এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। তখন সরাসরি জাপানকে সমর্থন না দিলেও শনিবার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে জাপানকেই সমর্থন দিলেন।
এদিকে, এশিয়া প্যাসিফিক থেকে একটি দেশ জাতিসংঘের এই পদ পাবে। এই পদের জন্য বাংলাদেশ ২০০১ সালে প্রথম ফ্লোর তৈরি করে। বাংলাদেশ ২০১৬-২০১৭ সালের জন্য এই পদ চাইছে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এই পদের জন্য বাংলাদেশ লবিং করেছিল।অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাপানকে সমর্থন দিয়ে সেই অবস্থা থেকে সরে এসেছে।
২০১১ সালে জাপানও একই পদে নির্বাচন করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। সেটা প্রকাশ করার পর তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে জাপানকে ওই পদ পেতে হলে বাংলাদেশের ভোট অবশ্যই লাগবে।
জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্যের পাশাপাশি প্রতি ২ বছরের জন্য আরো ১০টি দেশ অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়।
এই সফরে মোট ৪টি মেগা চুক্তিতে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার কথা থাকলেও এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নের জন্য আলাদা জাপানি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করা, রেল খাতের উন্নয়নে জাপানি সহায়তা বৃদ্ধি, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে জাপান সরকারের ঋণ এবং সেতু ও সড়ক যোগাযোগ খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপান সরকারের অনুদানের বিষয়গুলো রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ ছাড়ের জন্য জাইকাকে আগামী এক মাসের মধ্যে সার্ভে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন শিনজো আবে। এসময় বন্ধুপ্রতীম জাপানের অব্যাহত সহায়তায় বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এছাড়া বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি ।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে জাপান প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। জাপান-বাংলাদেশের মধ্যে নিবিড় অংশীদারিত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার হবে।’
এছাড়া সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলে বৈঠক করেন আবে। এসময় তিনি সব দলের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বড় দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মত দেন।
তিনি বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি, এ বিষয়ে জাপান সরকার অবগত আছে। বড় দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে যা বাংলাদেশের মানুষের গ্রহণযোগ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মেনে নেবে।’
এরপর জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাত বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে জাপানের সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানান রওশন এরশাদ। শিনবো আবে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্রুত এ খাতে সহায়তা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন।
এর আগে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে জাপান এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ বিমানে করে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এসময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 

জাতীয় এর আরো খবর