রোববার, ২৫ জুন ২০১৭
logo
দুঃখ লাগে খন্দকারের বিপক্ষে বলতে হচ্ছে
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ১০:১৩:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত একে খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইয়ের কড়া সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দুঃখ লাগে, একে খন্দকারের বিপক্ষে বলতে হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার দশম সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি কিছু দিন আগে আমাদের কেবিনেট সদস্য ছিলেন। গত সংসদে যখন মন্ত্রী ছিলাম না, তখন তিনি আমার পাশেই বসতেন।’
তোফায়েল বলেন, ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে কী হয়েছিল এদেশের মানুষ তা জানে। ওনার লেখার আর জবাব দেয়ার প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘বইটিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করা হয়েছে এবং এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
‘ইয়াহিয়া খান দুর্গত এলাকায় যাননি, এটা তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। বইয়ে উল্লেখিত এ কথার জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এটা যদি ইয়াহিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয় তাহলে একাত্তরের গণহত্যা কি? তাকি একে খন্দকারের কাছে ভুল মনে হয় না?’
বইয়ে তথ্যের ভুল ধরে তোফায়েল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের ১৪ দিন পর ভোলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি (একে খন্দকার) বলেছেন, এগুলো ঊনসত্তরের বিষয়ে, এ ব্যাপারে তিনি জানেন না।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এসব কথা বলা মানে অন্যের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া। ওনার বয়স হয়েছে। ওনার সমালোচনা করতে চাই না। ওনাকে শেখ হাসিনা পরিকল্পনামন্ত্রী করেছিলেন। মানুষের মধ্যে কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ থাকবে না?’
তোফায়েল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা ছিলেন, যিনি সব জানতেন। সেনানিবাসে কী প্রস্তুতি চলছিল, তাও তিনি জানতেন।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে কি হাওয়ার ওপর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে? বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে।’
বইয়ে শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষণে ‘জয় বাংলা’র পরে ‘জয় পাকিস্তান’ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তোফায়েল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে ‘জয় বাংলা’র পর আর কোনো কথা বলেননি। ওই দিনের ভাষণে আমি নিজেই উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু একে খন্দকার ‘জয় বাংলা’র পর ‘জয় পাকিস্তান’ কোথায় পেলেন?’
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে তার (একে খন্দকারের) এ বই বাতিলের দাবি জানাই। এ বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ জন্য তার বিচার হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘একে খন্দকার এখন ব্যর্থ প্রেমিকের মত কথা বলছেন। তিনি যখন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি তো তখন এমন কথা বলেন নাই।’
 

জাতীয় এর আরো খবর