মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
logo
বিদ্যুৎ বিল: মন্ত্রণালয়সহ ২১ প্রতিষ্ঠানে বকেয়ার পাহাড়
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ২২:১২:৩১
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা: সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ২১টি প্রতিষ্ঠানে ৮০৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে আছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বিল না দেয়ায় এ পাহাড় জমেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৪০১ কোটি টাকা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ৪০৫ কোটি টাকা বকেয়া আছে। ২৭৯ কোটি ৪৫ টাকা বকেয়া রেখে এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাদের বাকি ১১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
দশম সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে এম আব্দুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ তথ্য দেন।
প্রতিমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১১ কোটি ৬০ লাখ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ২০ কোটি ১১ লাখ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৭ কোটি ৯৭ লাখ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে ৪ কোটি ২২ লাখ, অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৮ কোটি ৩২ লাখ, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে ২২ কোটি ৫৭ লাখ, একই মন্ত্রণালয়ের রিফিউজি ক্যাম্পে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫ কোটি ৩৭ লাখ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ৪৩ কোটি ২৩ লাখ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩৯ কোটি ৪১ লাখ, মুক্তিযুদ্দ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৬ কোটি ৭৬ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ২৪ কোটি ৪৩ লাখ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৪ কোটি ৮৮ লাখ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৩৫ কোটি ৭৮ লাখ, শিল্প মন্ত্রণালয় ১৭ কোটি এক লাখ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।
মুহিবুর রহমান মানিকের (সুনামগঞ্জ-৫) ‘দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুদ কত এবং এর দ্বারা কতোদিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব’ এ প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরের জুলাই পর্যন্ত উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ১৪ দশমিক ৯২ টিসিএফ। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর এ মজুদ হতে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে এর সঙ্গে বাইরের উৎস হতেও গ্যাসের সংস্থান করতে হবে। ২০৩০ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন গ্যাস ব্যবহৃত হবে বলে বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা যায়।’
একেএম মাইদুল ইসলামের (কুড়িগ্রাম-৩) প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দেশে এলপিজি গ্যাসের সঠিক চাহিদা জানা নেই বলে জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে বার্ষিক ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন হারে এলপিজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া আরপিজিসিএল গড়ে বার্ষিক ছয় হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন করে। যা চাহিদার ১০ ভাগ পূরণ করে। সে অনুযায়ী দেশীয় উৎপাদিত এলপিজির পরিমাণ ১৯ থেকে ২০ হাজার টন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশিষ্ট এলপিজি গ্যাস কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এজন্য বিপিসির মালিকানায় এক লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বটলিং প্ল্যান্ট এবং পাবলিক ও প্রাইভেট অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বার্ষিক এক লাখ টন এলপিজি বটলিং স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে এমএ আউয়ালের (লক্ষ্মীপুর-১) সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘এলপিজির দামকে সহনীয় রাখতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে একটি বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। সরকারের এলপিজিগুলো দাম কম হওয়ায় চোরাইপথে বাইরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এলপিজির দাম সহনীয় থাকবে বলে মনে করছি।’
সানজিদা খানমের (মহিলা আসন-২৪) প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ৩১০০ মিলিয়ন মেট্রিকটন কয়লা সম্পদ মজুদ আছে। যা ৭৫ থেকে ৭৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের সমান। দেশে এ যাবত পাঁচটি কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি অথবা ক্ষেত্র ২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হতে বাণিজ্যিকভিত্তিকভাবে কয়লা উত্তোলন করছে।’
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়ে সুকুমার রঞ্জন ঘোষের (মুন্সিগঞ্জ-১) প্রশ্নের উত্তরে নসরুল হামিদ বলেন, ‘অবৈধভাবে স্থাপিত ২৩৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের মধ্যে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন সময়ে অভিযানের মাধ্যমে ৭৮ কিলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহাকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১৪৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল ও জমিমানা আদায় করা হয়েছে।’
মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের (সুনামগঞ্জ-১) প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘তেল গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কমপক্ষে ৫০ ভাগ দেশীয় জনবল নিয়োগের বিধান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটাকে ৯০ ভাগে উন্নীত করা হবে। তাদেরকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগও আছে।’
বিগত পাঁচ বছরে পল্লীবিদ্যুতের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নখাতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) কোনো আর্থিক সহায়তা দেয়নি বলেও নুরুন্নবী চৌধুরীর ( ভোলা-৩) প্রশ্নের উত্তরে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
 

জাতীয় এর আরো খবর