রোববার, ২৫ জুন ২০১৭
logo
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বিপাকে সরকার
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ১১:২১:২৬
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা: বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে অপরাগতা প্রকাশ করার পর, বিপাকে পড়েছে সরকার৷ তাই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন বিধিমালায় আবারো পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় পরিবর্তন করা হবে৷ বিধিমালায় বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের৷ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবর্তে অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেয়া হবে৷
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচন করতে চায় না৷ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তারা এটা করতে পারে না৷”
প্রসঙ্গ, গত ৬ এপ্রিল গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের বিধিমালা জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ৷ বিধিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় ছয় মাস৷ সে হিসাবে নির্বাচনের সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর৷বিধিমালা জারির পর গত মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাগিদ দেয়া হয়৷ এরপরই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে গিয়ে দেখা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান জানিয়ে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান৷ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানানো হয়, ‘‘শুধু গ্রামীণ ব্যাংক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ব্যাংকেরই পরিচালক নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চায় না৷''
আদালতের রায় মেনে ২০১১ সালের মে মাসে ড. মুহম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে চলে যাওয়ার পর এখনো গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার৷ বরং ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে গ্রামীণ ব্যাংকই৷ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এমডি নিয়োগ দিয়ে আসছিল৷ পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়৷ ১৩ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের নয়জনই ঋণগ্রহীতা সদস্য৷ বাকি চারজন সরকার মনোনীত সদস্য৷ ঋণগ্রহীতা সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এবং সবাই ড. ইউনূসের সমর্থক বলে পরিচিত৷ এর ফলে সরকার নিজের পছন্দের এমডি নিয়োগ দিতে পারছিল না৷ এর পরেই ২০১২ সালের আগস্টে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়৷ সংশোধনীতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এমডি নিয়োগের বাছাই কমিটি গঠনের একক ক্ষমতা দেয়া হয় চেয়ারম্যানকে৷কিন্তু পরের দুই বছরে ঋণগ্রহীতা নারী পর্ষদ সদস্যদের আপত্তিতে এমডি নিয়োগের বাছাই কমিটিও গঠন করা সম্ভব হয়নি৷ বেশ কয়েকটি পর্ষদ সভায় গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান একতরফাভাবে বাছাই কমিটি পাস করার চেষ্টাও করেও সফল হননি৷ অন্যদিকে নারী পর্ষদ সদস্যরা চেয়েছিলেন, বাছাই কমিটির প্রধান যেন ড. ইউনূসকে করা হয়৷
শেষ পর্যন্ত এমডি নিয়োগে সফল না হতে পেরে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন বিধিমালাই পরিবর্তন করা হয় গত এপ্রিলে৷ আর নতুন বিধিমালায় নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে৷ এখন বাংলাদেশ ব্যাংকও সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছে৷
প্রসঙ্গত, বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের দুই হাজার ৫৬৭টি শাখা, ২৬৬টি এলাকা এবং ৪০টি অঞ্চল রয়েছে৷ প্রতিটি শাখায় গড়ে ৫৬টি করে কেন্দ্র আছে৷ ব্যাংকের মোট কেন্দ্রের সংখ্যা এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৷ এছাড়া ব্যাংকের মোট সদস্য ৮৬ লাখের ওপরে, যাদের ৯৫ ভাগই নারী৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

জাতীয় এর আরো খবর