বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
logo
কেন বেশি বয়সি নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষ ?
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০১৬ ১৬:২৯:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+
লাইফ ওয়েব
চাঁদপুর: গোঁফের হালকা রেখা যখন ভেসে ওঠে, সেই বয়ঃসন্ধিতে অনেক সময় ঘটে যায় দুর্ঘটনা। নারী-পুরুষ সমীকরণ মাথাচাড়া দিতে শুরু করে। বয়স একটু বাড়তে না-বাড়তেই নজর পড়ে নারীদেহের উপর। তফাৎটা ফুটে উঠতে থাকে চোখের সামনে। শরীরের মধ্যে বাঁধ না-মানা উত্তেজনা। এসবই প্রাকৃতিক কারণে। ঊনিশ-বিশে সবার জীবনেই ঊনিশ-বিশ ঘটে। শুধু বহিঃপ্রকাশ একেক জনের একেক রকম। সেই প্রকাশ কখনও বশে, কখনও লাগামছাড়া। আর নারীর প্রশ্রয় পেলে তো কথাই নেই। রাতের ঘুম যায়। অনেক কিছুই যায়।

লোকে বলে বয়সের দোষ। ওই বয়সে ভালোমন্দ বিচারের ক্ষমতা থাকে না। ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিতে ধার ধারে না মন, শরীর। শুরু হয় অঘটনের পালা। দুর্ঘটনাবশত কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুরু হয় বেসামাল সম্পর্ক।

বয়সে বড় নারীর প্রতি আকর্ষণ একেবারে নতুন কিছু নয়। সেই আকর্ষণ আসলে যে কী, তা ব্যাখ্যা করাও কঠিন। শুধুই ভালোলাগা ? ভালোবাসা ? প্রেম ? না কি শারীরিক উত্তেজনাটাই আসল ?

রবির যে কাদম্বরী বৌঠানের প্রতি একটা বাড়তি অ্যাটাচমেন্ট ছিল, সেটা ভেবে দেখুন। অনেকটা তাই। সেটা যে সবসময় খারাপ, তা কিন্তু নয়। রবির সাথে সম্পর্কটা সত্যিই ভালো ছিল বৌঠানের। রবির বিয়ের পর, রবির অন্যত্র ব্যস্ত থাকা, একাকিত্ব - হয়তো এগুলিই কারণ ছিল বৌঠানের চলে যাওয়ার পিছনে। তবু নিউজ়প্রিন্টের প্রচুর কালী খরচ হয়েছে এঁদের নিয়ে। কী ছিল তাঁদের সম্পর্ক ? বৌঠান যখন মারা যান, তখন তাঁর বয়স ২৪। রবির বয়স ২২। তখনকার সমাজ বিষয়টিকে কীভাবে নিয়েছিল আজ উপলব্ধি করা কঠিন। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, যদি কিছু থেকেও থাকে, তা অসম্ভব, অপার্থিব কিছু ছিল না।

আজকের চারপাশে পাড়াতুতো দিদি, বৌদির ছড়াছড়ি। আড়চোখে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া, যাকে পাতি বাংলায় ‘ঝাড়ি করা’ বলে, হয় না ? হয় হয়। আলবাত হয়। হৈ হৈ করে হয়। সেই তালিকায় দিদি, বৌদিরাই শুধু নয় অল্প-বয়সি আন্টিরাও সামিল। কিন্তু কেন ?

এই কেন প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছিলাম আমরা। কেন বেশি বয়সি নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয় পুরুষ ? বা আরও মসৃণ করে প্রশ্ন করা হলে, কেন বেশি বয়সি নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষ। (সব পুরুষের জীবনে এমনটা নাও হতে পারে।) বিষয়টি অনেক জটিল। একটা প্রতিবেদনে লেখা সম্ভব নয়। রীতিমত গবেষণার বিষয়। তবে চট-জলদি কয়েকটি বিষয় নিশ্চয় নজরে আসে।

প্রাথমিক আকর্ষণ -

১ নারীরূপের এক সম্মোহনী শক্তি আছে। নেশার মতো। বয়ঃসন্ধিতে সমবয়সি মেয়েদের মধ্যে সেই রূপ কম। নারীর পূর্ণ রূপ তার ভরা যৌবনে। হয়তো সেই সম্মোহনীরূপেই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে নতুন যৌবন।

২ ভীত-সন্ত্রস্ত সমবয়সি বা সহপাঠিনীদের কাছে যৌবন উন্মোচনের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ সেখানে ভয় কাজ করে দু-দিকেই। বয়ঃসন্ধির নারীর তখন জড়তা কাটতে অনেক দূর। তুলনায় বরং অনেকটাই সহজ, সাবলীল, উন্মুক্তমনা রমণী।

৩ চলতি কথা - নিষিদ্ধতার মধ্যেই নাকি চরম সুখ। নিষিদ্ধ বিষয় শরীরে অ্যাড্রেনালিনের ঘোরদৌড় করায়। যতো বেশি নিষিদ্ধ, ততো বেশি অ্যাড্রেনালিন, ততো বেশি সুখ।   

সম্পর্কের গভীরতা -

১. এরপর যদি কোনও কারণে সম্পর্ক একটা দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে পুরুষ পড়ে প্রেমে। এবং সেটা গভীর প্রেমে। সেই প্রেম আবার চট করে যাওয়ার নয়। কারণ পৃথিবীর সবরূপ, লাবণ্য ঢলে পড়ে তাঁর সামনে। জীবনের প্রথম সেই উপলব্ধি পুরুষকে পাগল করতে বাধ্য। তার পক্ষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।

আগুনে যেভাবে পঙ্গপাল পোড়ে, সদ্য যৌবন পোড়ে পূর্ণ-প্রজ্জ্বলিত বহ্নিশিখায়। সেখানে পুড়েই তার শান্তি। নিষ্কৃতি তার কাম্য নয়। একটু সহজ করে বললে, নারীরূপের সেই প্রথম দর্শন থেকে বেরিয়ে আসা পুরুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বয়স সেখানে ধার ধারে না।  

২ চলতি কথায় - বয়সের বিচারে পুরুষের চেয়ে নারীর ম্যাচিওরিটি বেশি।

প্রেম যখন মধ্যগগনে তখন পুরুষের আসে ভরসা নারীর প্রতি। ম্যাচিওয়র্ড নারীর প্রতি সেই ভরসা তাকে অনেকটা পথ আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। (বয়সের ফারাক থাকা সত্ত্বেও, যে প্রেমগুলো আখেরে টিকে যায়, তাদের ক্ষেত্রে।) শারীরিক সম্পর্ক তখন বেশ কিছুটা গভীর। পিছন পিছন মনও গিয়ে হাজির।

৩. যৌনতা - ষোড়শীর নারী অনভিজ্ঞ। তার অভিজ্ঞ হতে সময় লাগে। কিন্তু তুলনায় বেশিবয়সি নারী অভিজ্ঞ। পুরুষকে তৃপ্ত করার হারেক মন্ত্র তার জানা।

এই আকর্ষণ থেকেও, অনেক সময় বেশি বয়সি মহিলার প্রেমে পড়ে পুরুষ।

৪. বিশেষ জায়গা - বেশি বয়সি প্রেমিকার কাছ থেকে একটু বেশিই প্যাম্পার্ড হয় পুরুষ। তাকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছোটো বলে অনেক কিছুতেই ছাড় দেওয়া হয়। সমবয়সি মেয়েদের কাছে আহ্লাদ, আবদার চলবে না। বরং উলটে তাদের আবদার সহ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে কেসটা ঠিক উলটো। প্রেমিকাই আতুপুতু করে রাখে অল্পবয়সি প্রেমিককে।