মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
logo
জেনে নিন, রাতে অতিরিক্ত ঘামের কারণ
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:০২:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
লাইফ ওয়েব

চাঁদপুর: কয়েকজন ডাক্তার তাদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন আমাদের সঙ্গে। বললেন, তাদের কাছে রোগীরা আসেন অদ্ভূত অদ্ভূত সমস্যা নিয়ে। তার একটি নাকি রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা। ঘুমের মধ্যে অসম্ভব ঘামের কারণে বারবার জেগে ওঠেন তারা। আমাদের অনেকেরই হয়তো এই সমস্যা আছে। যে কারণে এয়ারকন্ডিশনার না চালালে ঘুমই আসতে চায় না।
যদিও ডাক্তাররা বলছেন, রাতে আবহাওয়ার তাপমাত্রা বেশি থাকলে কিংবা অতিরিক্ত পোশাক পরে ঘুমাইলে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তা যদি না হয়, স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও কুলকুল করে ঘামলে বিপদ আছে। এমন ধরনের ঘামের সময় মুখ ও শরীরের অন্যান্য অংশ লাল হয়ে যায়। কী কী কারণে এই ঘাম হয় জেনে নিন -
১. মেনোপজ: ৪০-৪৫ ঊর্ধ্ব মহিলাদের রাতে অতিরিক্ত ঘাম হলে বুঝতে হবে, আর কিছুদিনের মধ্যেই মেন্সটুয়েশনে পজ আসতে চলেছে তাদের। ফলে ঘুমের মধ্যে ঘাম তারই একটা উৎসর্গ মাত্র।
২. ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিস: অতিরিক্ত ঘাম হওয়াকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিস। যাদের এই সমস্যা আছে, তাদের শরীরে সবসময়ই ঘাম হয় একটু বেশি।
৩. টিউবারকুলোসিস: টিবি কিংবা টিউবারকুলোসিসের একটি অন্যতম সিমটম ঘুমের মধ্যে ঘাম। টিবির সংক্রমণকারী জীবাণু এন্ডোকার্ডিটিস ও অস্টেওমায়েলিটিসের বৃদ্ধির কারণে ঘাম হতে থাকে।
৪. HIV: যৌনরোগ হিউম্যান ইমিউনোডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস বা HIV শরীরে বাসা বাঁধলেও জানান দেয় রাতের ঘাম।
 
৫. ক্যান্সার: লিমফোমারের মতো ক্যান্সারের অন্যতম উপসর্গ রাতের ঘাম। প্রতিরাতে তীব্র ঘাম হলে ফেলে রাখবেন না। ডাক্তার দেখিয়ে নিন।
৬. ওষুধ: কিছু অ্যালোপেথি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এই ঘাম। অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, অ্যাসপিরিন, অ্যাসিটামিনোফেনের মতো ওষুধ এর জন্য দায়ী।
৭. হাইপোগ্লাইসেমিয়া: ব্লাড সুগার লেভেল কমে গেলে রাতে হঠাৎ ঘাম হতে পারে। ইনসুলিন কিংবা ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলেও হতে পারে এই ঘাম।
৮. হরমোনের সমস্যা: ফিওক্রোমোসাইটোমা, কারসিনয়েড সিনড্রোম, হাইপারথাইরয়েডিজ়মের মতো নানা প্রকার হরমোনের সমস্যার কারণে রাতে ঘাম হতে পারে।
৯. নিউরোলজি: ডিসরিফ্লেক্সিয়া, পোস্টট্রম্যাটিক সিরিঙ্গোমিয়েলিয়া, স্ট্রোক ও অটোম্যাটিক নিউরোপ্যাথিকে রাতের ঘামের কারণ হিসেবে ধরে নেন চিকিৎসকেরা।
আপনারও যদি রাতে ঘামের সমস্যা থাকে অযথা অবহেলা করবেন না। কারণ, জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জানবেন, সঠিক সময় চিকিৎসা হলে ভালো থাকবেন আপনি। ভালো থাকবেন আপনার প্রিয়জন।

লাইফস্টাইল এর আরো খবর