বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
বাবার জন্য ভালোবাসা
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০১৬ ১৩:৩৪:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+
লাইফ ওয়েব

চাঁদপুর : বাবা, ছোট্ট এই শব্দের সঙ্গে মিশে আছে নির্ভরতার এক অপার সুখ। ভালোবাসা, আবদার, আহ্লাদের জায়গা এটি। সন্তানের চোখে পরিবারের সবার জন্য বাবা একজন বটবৃক্ষের শীতল ছায়াও বটে। বাবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা প্রকাশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের ৫২টি দেশ একযোগে পালন করে বাবা দিবস। বাবার জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। মূলত মা দিবসের অনুকরণে পালিত হয় বাবা দিবস।
এবছর ১৯ জুন দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তারপরও সন্তানেরা মনের গভীরে লালনকৃত ভালোবাসার যৎসামান্য বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বছরের একটি দিন বিশেষভাবে বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। যেমনটা মায়ের জন্য করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাবা দিবসের প্রচলন।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। মায়ের পাশাপাশি বাবাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দ্বায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে এই দিবসের যাত্রা শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ই জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। অপরদিকে, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক নারীর চিন্তাতেও বাবা দিবসের পরিকল্পনা আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে, ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই বিষয়টি জানতে পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক সন্তুষ্টজনক কথা বলছিলেন। তখন তার মনে হয়, বাবাদের নিয়েও কিছু করা দরকার।
এদিকে ডড তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯শে জুন, ১৯১০ সালের থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন। এরপর থেকে বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টে যায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাবাকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হলেও ভালোবাসার আবেদনে কিন্তু একটুও ভিন্নতা দেখা যায় না। জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে "ফ্যাট্যা" আর ড্যানিশ ভাষায় "ফার"। আফ্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’ হচ্ছেন বাবা। চীনারা আবার বাঙালির ‘বাবা’ কে কেটে ছোটো করে ‘বা’ বানিয়ে নিয়েছেন। কানাডিয়ান ভাষায় বাবা হচ্ছেন ‘পাপা’ তেমনি ক্রোয়েশিয়ান এ ‘ওটেক’। ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজ ভাষায় বাবা ডাক হচ্ছে ‘পাই’। ডাচ ভাষায় পাপা, ভাডের আর পাপাই এই তিনটি হচ্ছে বাবা ডাক। সবচেয়ে বেশি প্রতিশব্দ ইংরেজি ভাষায়! ইংরেজরা বাবাকে ফাদার, ড্যাড, ড্যাডি, পাপা বলে ডাকেন। ফিলিপিনো ভাষা এদিক থেকে একবারে পিছিয়ে নেই। ফিলিপিনো ভাষায় বাবা হচ্ছেন তাতেই, ইতেই, তেয় এবং আমা। হিব্রু ভাষায় বাবা হচ্ছে ‘আব্বাহ’। হিন্দি ভাষার বাবা ডাকটি হলো ‘পিতাজী’ ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় ‘বাপা’ কিংবা ‘আইয়্যাহ’! জাপানিরা তাদের ভাষায় বাবাকে ডাকেন- ‘ওতোসান’, ‘পাপা’। পুর্ব আফ্রিকায় অবশ্য বাবাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকে। হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় পাপা ছাড়াও বাবা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে, যেমন- ‘আপা’, ‘আপু’, ‘এদেসাপা’।
আজকের দিনটি শুধুই বাবার খুশির জন্য। নতুন প্রজন্মের কাছে মা দিবস-বাবা দিবসের ধারণাগুলো দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে এই বিশেষ দিনে বাবাকে শুভেচ্ছা জানানো এখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বায়নের যুগে শুধু শহুরে সংস্কৃতিতেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে দিবসটির বার্তা। বিশেষ এই দিবসে বাবাকে চমকে দেয়ার জন্য সন্তানেরা পাঞ্জাবির দোকান, কার্ডের দোকান, ফুলের দোকানে ভিড় জমান। বাবাকে এই দিবসে শ্রেষ্ঠ উপহার দেওয়া নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। সব বয়সীরাই এই দিনটিতে তার বাবাকে একটি সুন্দর উপহার কিংবা একটু সঙ্গ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। খাবারের দোকানগুলো এই বিশেষ দিবসে ভরে ওঠে বাবা ও সন্তানের আগমনে। দিনটি যেন শুধুই বাবাকে ভালোবাসার..

লাইফস্টাইল এর আরো খবর