বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮
logo
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রধান বিচারপতিকে দিলেন আইনমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট, ২০১৭ ১২:৪২:০৪
প্রিন্টঅ-অ+
নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে বিধির অনুলিপি জমা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুমোদন হওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। 
 
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার শাখা খসড়াটি তৈরি করে। পরে বিকেলে প্রধান বিচারপতির কাছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অনুলিপি  হস্তান্তর করেন। এর আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একান্ত বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
 
এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি অর্ধশতাধিকবার সময় দেন আপিল বিভাগ। গত প্রায় দুই বছর খসড়াটি তৈরিতে সময় নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ মামলাটি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমান সিনহার নেত্বত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি চলছে।
 
বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
 
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষকে এক সপ্তাহ সময় দেন আদালত।
 
ওইদিন আদালত বলেন, ‘শেষবারের মতো সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে বিধি চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে জারি করবেন।’
 
১৯৮৯ সালে সরকার বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কিছু পদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি করে। এতে অন্য ক্যাডারদের সঙ্গে অসংগতি দেখা দেয়। তৎকালীন সরকার এই অসংগতি দূর করার জন্য ১৯৯৪ সালের ৮ জানুয়ারি জজ আদালতের বেতন স্কেল বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসন ক্যাডারের আপত্তির মুখে সরকার ওই বেতন স্কেল স্থগিত করে।
 
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারক ১৯৯৫ সালে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা করেন।
 
দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট পাঁচ দফা সুপারিশসহ ওই মামলার রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ ১৯৯৯ সালে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ঐতিহাসিক রায়টি দেন।
 
মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষণার আট বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়। ওই সময় যে চারটি বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছিল, এর মধ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্ত) বিধিমালা, ২০০৭ একটি। যেখানে বলা হয়েছে, পৃথক বিধি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান করা হবে ১৯৮৫ সালের গভর্নমেন্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী। তবে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী সেই জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধি এখনো তৈরি হয়নি।

আইন আদালত এর আরো খবর