বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯
logo
তত্ত্বাবধায়কের সময় নেয়া টাকা ফেরতের রায় বৃহস্পতিবার
প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০১৭ ১৪:৪৩:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব
ঢাকা: সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেয়া এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া এই এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে ২০১০ ও ২০১১ সালে  নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব আদেশের বিরুদ্ধে একসঙ্গে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং তৎকালীন টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্টস (টিএফআই) কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক হাজার ২৩২ কোটি টাকা আদায় করেন। এ টাকা দুই শতাধিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ‘০৯০০ নম্বর’ হিসাবে জমা হয়।

তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল জেমস ফিনলে কোম্পানির কাছ থেকে ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা আদায় করে। ওই টাকা ১৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ‘কনসোলিটেড ফান্ডে’ জমা দেয়া হয়।

এর পর ২২ এপ্রিল একই প্রতিষ্ঠানের নামে আরো ১৫টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১২০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়। একই প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে দেড় বছর ধরে বিভিন্ন তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের সংশ্লিষ্ট হিসাবে টাকা জমা হয়েছে।

ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ছাড়াও ‘অজানা’ উল্লেখ করেও সেনা-সমর্থিত সরকারের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ওই ব্যাংক হিসাবে চার দফায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন।

দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়েছে ওই সময়। ২০০৭ সালের ২৮ মে থেকে ২০০৮ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে ২৫৬ কোটি টাকা নেয়া হয়।

২০০৭ সালের ১৯ জুন থেকে একই বছরের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সিকদার গ্রুপের পরিচালক ও সদস্যদের পক্ষ থেকে পারভীন হক সিকদার বাধ্য হয়ে নয়টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ আছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ৩০ কোটি, এমজিএইচ গ্রুপের ২৪ কোটি, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের কাছ থেকে ২০ কোটি, কবির স্টিল মিলস লিমিটেডের ৭ কোটি, ব্যবসায়ী নুর আলীর ৪০ কোটি ৫০ লাখ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ৩২ কোটি ৫০ লাখ, সাগুফতা হাউজিংয়ের দুই কোটি ৫০ লাখ, হোসাফ গ্রুপ ১৫ কোটি, পারটেক্স গ্রুপের ১৫ কোটি, স্বদেশ প্রপার্টিজের ৯ কোটি, ইসলাম গ্রুপের ৩৫ কোটি, কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৮ কোটি, ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের ১৭ কোটি, আবু সুফিয়ানের ১৪ কোটি, শওকত আলী চৌধুরীর ৬ কোটি, আশিয়ান সিটির এক কোটি, পিংক সিটির ৬ কোটি ৪১ লাখ, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ১৯ কোটি ৪৫ লাখ।

এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ১৫ কোটি, ওয়াকিল আহমেদের ১৬ কোটি, এবি ব্যাংক ফাউন্ডেশনের ৩২ কোটি, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ২০ কোটি ৪১ লাখ, এলিট পেইন্টের ২৫ কোটি ৪৪ লাখ, এবি ব্যাংকের ১৯০ কোটি, কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের ৭ কোটি, জনৈক মালিকের কাছ থেকে চার কোটি ও ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর দুই কোটি ২০ লাখ টাকা নেয়া হয়।

এ ছাড়াও জনশক্তি রফতানিকারক ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর আলীর কাছ থেকে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।

আইন আদালত এর আরো খবর