শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
কামরুল-মোজাম্মেলের মন্ত্রীর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৩৪:১৯
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা: আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি জমা দেয়া হয়েছে।
শপথভঙ্গের পর দুই মন্ত্রী কোন কর্তৃত্ব বলে পদে আছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এই রিট আবেদনে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর তিনি দুই মন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই দুই মন্ত্রীকে জবাব দিতে বলা হয়। না হলে মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন ইউনুস আলী আকন্দ।
যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায়ের আগে সর্বোচ্চ আদালতকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুই মন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের আপিল বিভাগ গত ২৭ মার্চ রায় দেন।
সংক্ষপ্তি রায়ে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।
এই রায়ে বলা হয়, ‘দুই মন্ত্রী আইন লংঘন করেছেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানে শপথ ভঙ্গ করেছেন।’
সংবিধানের ১৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে সে সংসদ সদস্য পদের যোগ্যতা হারায়।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংবিধানে শপথ ভঙ্গের শাস্তির ব্যাপারে কিছুই বলা নেই। তবে সাংবিধানিক পদধারীদের নিয়োগ কার্যকর হয় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে।
আর সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে যদি বলা হয়, সাংবিধানিক পদধারীদের কেউ শপথ ভঙ্গ করেছেন, তবে তার নিয়োগও অটোমেটিক্যালি বাতিল হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানিকালে মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনে দুর্বলতার কারণে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার প্রতি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।
এরপর ৫ মার্চ সরকারের দুই মন্ত্রী প্রধান বিচারপতি ও আদালত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।
রাজধানীর বিলিয়া সেন্টারে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে পুনরায় মীর কাসেমের আপিল শুনানির আহ্বান জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
তখন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধান বিচারপতি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে আসামির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কোনো কারণই নেই। আমি নিশ্চিত যে, তার কথা থেকে তিনি বাইরে যেতে পারবেন না। আসামিকে হয় তিনি খালাস দেবেন, নয় সাজা কমিয়ে দেবেন, না হয় মামলা পুনর্বিচারে পাঠাবেন। আর এরপরও যদি রায় অন্যরকম (মৃত্যুদণ্ড) হয়, তাহলে আবার অনেকে বলবে, সরকার চাপ দিয়ে রায় বহাল রেখেছে।”
এই মামলা পরিচালনা থেকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকেও বাদ দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সমালোচনায় লিপ্ত হন।
পরে ৮ মার্চ মীর কাসেমের রায় ঘোষণার দিন দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। পাশপাশি তাদেরকে আদালতে তলব করে আদেশ দেন।

আইন আদালত এর আরো খবর