শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০
logo
পরিস্থিতির শিকার হয়ে কান ধরে ওঠবস
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট, ২০১৬ ১৫:২৫:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা : নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনাকে ‘পরিস্থিতির শিকার’ বলে উল্লেখ করেছেন শ্যামল কান্তি ভক্ত নিজেই। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে তিনি বলেছেন ঘটনার দিন চতুর্দিকে মাইকিং করা হয়। জনতা উত্তেজিত হয়ে আমাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় কান ধরে উঠবসের ঘটনা ঘটেছে।
নারায়ণগঞ্জের ওই ঘটনায় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এই প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত থেকে বেরিয়ে এসে মোতাহার হোসেন সাজু প্রতিবেদনের এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় শ্যামল কান্তিসহ ১১জন সাক্ষী ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন।
তিনি জানান, পুলিশের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ছিল আকস্মিক। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান উভয়ই উদ্ভুত ঘটনার শিকার।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু ঘটনাটি আকস্মিক এবং শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও সাংসদ সেলিম ওসমান উভয়ই ঘটনার শিকার, সেহেতু কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ তুলে জবানবন্দীও দেননি। তাই এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনোরকম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে রিটের পক্ষের আইনজীবী এমকে রহমান বলেন, ‘পুলিশের দাখিলকৃত এ প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে আদালত প্রশ্ন রেখে বলেছেন, গণমাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা এসেছে। এটা কে বা কারা ঘটিয়েছে ও মাস্টারমাইন্ড কারা ছিল তদন্তে তা আনতে হবে না?
এর আগে গত ৩ আগস্ট প্রতিবেদনটি নারায়ণগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেয়ার পর তা নথিভুক্ত হয়। এরপর সেটি হাইকোর্টে আসে।
গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৮ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঘটনায় কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের জানানোর নির্দেশও দেন।
সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষকের কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন।
রুলের প্রেক্ষিতে ৯ জুন প্রশাসন প্রতিবেদন জমা দিলেও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) প্রতিবেদন জমা দিতে দুই মাস সময় চান। সময় আবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনায় করা জিডি প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় নতুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া সম্ভব নয়।
আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ৪ আগস্ট পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। আর এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এবার জিডির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
এদিকে এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নিজেদের উদ্যোগে ঘটনা সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। সে প্রতিবেদনের ব্যাপারে আগামী ১০ আগস্ট আদালতে আবার শুনানির কথা রয়েছে।

আইন আদালত এর আরো খবর