শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০
logo
গুলশানের বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে মওদুদকে
প্রকাশ : ০২ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:৩৪:১২
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা : বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা মওদুদ আহমদ তিন দশক ধরে যে বাড়িতে বসবাস করে আসছেন, সেই বাড়ি তার ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) ও ডিক্রি জারি করতে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে গেছে।
সেই সঙ্গে মওদুদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলাও আর টিকছে না।
আদালতের এ রায়ের ফলে বাড়িটি মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে নামজারি করতে হবে না। এ কারণে ভাইয়ের নামে দখল করা বাড়িটি মওদুদকে ছাড়তে হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, মনজুর আহমদের নামে নামজারি করতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিলে রাজউকের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে দুদকের মামলাটির অভিযোগ আমলে নেয়া বৈধ বলে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে মওদুদ ও তার ভাই মনজুরের করা আপিল মঞ্জুর করায় মামলাটি বাতিল হয়ে গেছে।
২০১০ সালের ১২ আগস্ট এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই বাড়িটি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার জন্য  রায় দেন হাইকোর্ট।
রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আপিল বিভাগ রাজউককে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর চলতি বছর এ মামলার শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আদালত।
২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাড়িটি নিয়ে দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে তাদের আবেদন গত বছরের ২৩ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন মওদুদ আহমদ। এ আবেদনের শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দু’টি বিষয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ।
দুদকের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।
এরপর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন বলে মামলায় অভিযোগ করে দুদক।
আদালতে মওদুদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সাবেক প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও এ জে মোহাম্মদ আলী।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আইন আদালত এর আরো খবর