সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে হবে তারেককে
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৬ ১২:২৮:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা : অর্থ পাচার মামলায় হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এক্ষেত্রে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
আদালত থেকে বেরিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের এ কথা জানানা।
তিনি বলেন, ‘দুদক আইন ২০০২ এর ১৩ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী এ মামলায় তারেক রহমান দণ্ড দেয়া হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে পলাতক আসামি তারেক রহমানকে আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
দুদকের করা অর্থপাচার মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া খালাসের রায় খারিজ করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিচারিক আদালতে দেয়া সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। মামলায় তারেক ও মামুনকে ২০ কোটি টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারিক আদালত এর আগে মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করেছিলেন। হাইকোর্ট সে জরিমানা অর্ধেক কমিয়েছে।
রায়ের বিরুদ্ধে তারেক রহমান আপিল করবেন কিনা সে বিষয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেছেন ফৌজদারী কার্যবিধি দেখে এ ব্যাপারে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
তারেক রহমানের অন্য মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন আমরা এ রায়ে হতাশ, ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত। তারেক রহমান জনপ্রিয় হওয়ার কারণেই এ সাজা দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন খোকন।
তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান জনপ্রিয় হওয়ার কারনে যেমন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন যড়যন্ত্র করা হয়েছিলো তেমনই তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও যড়যন্ত্র চলছে।’
আদালত থেকে বেরিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদরে বলেন, ‘দুদক আইন ২০০২ এর ১৩ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী এ মামলায় তারেক রহমান দণ্ড দেয়া হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারেক রহমান আপিল করতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন এই আইনজীবী। তবে আপিল করতে হলে তাকে আদালতে আত্বসমর্পন করতে হবে বলেন খুরশিদ।
এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘আদালত এ রায়ে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করতে দুদক ও পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।’
এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আইন সবার জন্য সমান বলে মন্তব্য করেন দুদকের এই কৌঁসুলি।
এদিকে আদালত থেকে বেরিয়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন ‘দুদক এ মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে দায়ের করেছে তার উপাদান এখানে নেই। কারণ অর্থ পাচার মামলা করার অন্যতম উপদান হলো দেশের টাকা বিদেশে পাঠানো। কিন্তু এ মামলার অভিযোগে সেটি অনুপস্থিত।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখানে সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে টাকা লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদেশ থেকে বিদেশে কোনো টাকা পাচারের অভিযোগ নেই। আমরা এ বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরেছি।’ কিন্তু সেটি বিবেচনায় না নিয়ে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সাজা আরো বাড়ানো হয়েছে। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।
কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা আশা করছিলাম এ মামলায় আমাদের আসামি খালাস পাবেন এবং ন্যায় বিচার পাব। কিন্তু আমরা সেটি পাইনি এজন্য আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।
বিচারিক আদালতে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ ডিসম্বর আপিলে আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাদের আপিল গ্রহণ করে আসামি তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর দায়ের করা এ মামলায় তারেক-মামুনের বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৬ জুলাই।
এ মামলায় অভিযোগ করা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশনস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন।
২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ‘বিভিন্ন পন্থায়’ ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়, যার মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
বিচার শেষে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। অপর আসামি গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে দেয়া হয় সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সঙ্গে ৪০ কোটি টাকা জরিমানা।
মামলাটি দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই অনুপস্থিত ছিলেন তারেক। গত আট বছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। আর মামুন জরুরি অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে।
তারেক রহমানের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আপিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট দুদকের আপিল গ্রহণ করে আসামি তারেককে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়।
লন্ডনপ্রবাসী তারেক না ফেরায় তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে তা তার লন্ডনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও আদালতে সাড়া দেননি তারেক রহমান।
দুদকের করা ওই আপিলের সঙ্গে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে মামুনের করা আপিলও শুনানির জন্য তালিকায় আসে। এরপর হাই কোর্টে ৪ মে আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়ে শেষ হয় ১৬ জুন।

আইন আদালত এর আরো খবর