শনিবার, ৩০ মে ২০২০
logo
বন্দুকযুদ্ধে ফাহিমের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত চেয়ে নোটিশ
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৬ ১৬:৪০:৪০
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা : মাদারীপুরে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত ফাহিমের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জনস্বার্থে এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু।
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, পুলিশ সুপার (মাদারীপুর জেলা) এবং ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর এ নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রিমান্ডে থাকা ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত শীর্ষক একটি নিউজ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। মাদারীপুর সরকারি নাজিম উদ্দীন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার গোলাম ফায়জুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে
বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় গত ১৮জুন শনিবার সকালে। তার আগের দিন ১৭ জুন শুক্রবার ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর পরদিনেই ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মিয়ারচর ঘটনাস্থলে ধান ও পাটক্ষেতের মাঝখানে ফায়জুল্লার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানা যায়। তার হাতে পেছনের দিকে হ্যান্ডকাপ পরানো ছিল। পুলিশ হেফাজতে থাকা রিমান্ডের আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।’
এতে আরো বলা হয়, ‘রিমান্ডে থাকা আসামিকে নিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। রিমান্ডে থাকা আসামিকে নিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশরা কেন আসামির পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করেননি তাও প্রশ্নবিদ্ধ।’
ওই আইনজীবী নোটিশে আরো বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে থাকা আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও উক্ত অভিযানে কোনো দুস্কৃতিকারী দুর্বৃত্ত তথা পুলিশ সদস্য বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সরাসরি আহত বা নিহত হননি।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে পত্রপত্রিকার মারফতে জানতে পারি যে এলকাবাসী ঘটনার সময় গুলাগুলির কোনো আওয়াজ শোনেননি বা কাউকে পালাতে দেখেননি। কিন্তু মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বিভিন্ন সাংবাদিকদের জানান ফায়জুল্লাহকে নিয়ে অভিযানে
গেলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় এই সময় ফায়জুল্লাহ নিহত হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এবং এলকাবাসীর বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং তাদের বক্তব্য থেকে এটি প্রতিয়মান হয় যে, রিমান্ডে থাকা
ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় নাটকীয়তা ও রহস্য রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন, হেফাজত আইন
ও উচ্চ আদালত কর্তৃক রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত গাইড লাইন ও আদেশের পরিপন্থী।’
লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিমান্ডে থাকা ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে নাকি প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের নাম আড়ালে রাখার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি করা হয়েছে নোটিশে। একইসঙ্গে কেন উক্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না? কেন উক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ডিপার্টমেন্টাল এ্যাকশন নেয়া হবে না তা লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়েছে।
যথাসময়ে নোটিশের জবাব না পেলে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী।

আইন আদালত এর আরো খবর