বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০
logo
মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০১৬ ১৩:৩২:০৫
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেছেন।
রোববার সকালে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবীর মাধ্যমে এ রিভিউয়ের (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেন তিনি।
মীর কাসেম আলীর ছেলে ও তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মীর কাসেমের আইনজীবী মীর আহমেদ বিন কাসেম গণমাধ্যমকে জানান, রোববার সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দাখিল করা হয়। ৬৮ পৃষ্ঠার আবেদনে তারা ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে তারা মীর কাসেমকে ফাঁসির দণ্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে রিভিউ আবেদনটি দাখিল করেছেন।
এর আগে গত ৬ জুন মীর কাসেমের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ওইদিন সকালে বিচারপতিদের স্বাক্ষর শেষে ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
গত ৮ মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালে দেয়া মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। তবে ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ একটি অভিযোগে এই দণ্ড বহাল রাখেন।
তার বিরুদ্ধে আনীত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে মীর কাসেমের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আপিল নাকচ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ই বহাল রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে হত্যার দায় থেকে এই জামায়াত নেতা অব্যাহতি পেলেও ১১ নম্বর অভিযোগ সর্বোচ্চ সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।
আপিলে দেয়া সেই রায়টি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই লিখেছেন। পরে এতে স্বাক্ষর করেন অপর চার বিচারপতি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান।
নিয়ম অনুযায়ী এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। সেই মৃত্যু পরোয়ানা মীর কাসেম আলীকে পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। আইন অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার সুযোগ ছিলো তার। সেই নির্ধারিত সময় পার হওয়ার একদিন আগে রিভিউ আবেদন করা হলো।
রিভিউতে তার আবেদন খারিজ হলে আর কোনো আইনী প্রতিকার তার থাকবে না। সেক্ষেত্রে দোষ স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন তিনি করতে পারবেন। সেই আবেদন গৃহীত না হলে সরকারের নির্বাহী আদেশে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করবে।
মীর কাসেম আলী ষষ্ঠ ব্যক্তি যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এর আগে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে নয়াদিগন্ত কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয় দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও এই ব্যবসায়ীকে। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যুদ্ধাপরাধের বিচার। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
 

আইন আদালত এর আরো খবর