শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০
logo
প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৬ ১৫:৫৮:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা : নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কানধরে উঠবস করানোর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন এসেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে এ প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজুর কাছে এ প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সেদিন লাঞ্ছিত স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তির কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র আদায় করে পরিচালনা পর্ষদ এবং তাতে স্বাক্ষর নেয়া হয়।
যে ছাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেই শিক্ষার্থীও ‘একেক সময় একেক কথা বলেছে’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্যামল কান্তিকে বরখাস্তের আদেশটি নিয়ম মোতাবেক হয়নি বলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ‘চার দফা সুপারিশসহ কমিটির ওই প্রতিবেদন হাতে এসেছে। হলফনামা করে প্রতিবেদন আকারে তা আদালতে জমা দেয়া হবে।’
গত ১৮ মে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠ-বসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেটিও প্রতিবেদন আকারে আকারে আদালতে জমা দিতে বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতি এ আদেশ দেয়া হয়।
ওই আদেশের ফলে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজুর কাছে এ প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। গত ১৮ মে বুধবার বিচারপতি মইনুল ইসাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইকবাল কবির লিটনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
আদেশে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১৩ মে বিকেলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রটিয়ে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ নেতা সেলিম ওসমান।
তবে সেলিম ওসমান বলেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি।
দশম শ্রেণির ছাত্র রিফাতের কথা বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে। সেই রিফাতই এখন ধর্ম নিয়ে ওই শিক্ষকের কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করেছেন।
সে বলেছে, স্যার তাকে মারধর করায় সে বিচার চাইতে কমিটির কাছে গিয়েছিল। মারধরের সময় ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
এদিকে এ ঘটনা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে গণমাধ্যমগুলোয় তা আসার পর সারা দেশে এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দাবি ওঠে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

আইন আদালত এর আরো খবর