শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
গুরু পাপে লঘু সাজা
১০ বছরের সাজা ঘোষণা ধর্ষক বাবার
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট, ২০১৭ ১৭:১৯:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং

২৮ আগস্ট, ২০১৭, চাঁদপুর ওয়েব : সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং এর বিরুদ্ধে  ১০ বছরের সাজা ঘোষণা করা হলো। সোমবার রোহতকের জেলে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারপতি জগদীপ সিং। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ জেলে প্রবেশ করেন দু’পক্ষের আইনজীবীরা। আড়াইটা বাজার কিছু সময় আগে রোহতকে পৌঁছান বিচারপতি।  বেলা আড়াইটার কিছু সময় পর থেকে শুরু হয় শুনানি। শুনানির সময় নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দুই পক্ষকে ১০ মিনিট করে সময় দেওয়া হয়। যুক্তি তর্ক শেষ হওয়ার পর বিচারপতি সবাইকে নীরবতা পালন করতে বলেন। এরপর সাজা ঘোষণা করেন জগদীপ সিং।
 
২০০২ সালে নিজ আশ্রমে দুই নারী অনুসারীকে ধর্ষণ করার দায়ে শুক্রবার রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারপতি জগদীপ। আর ভারতের স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর আড়াইটায় আসে রাম রহিমের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার পালা। শুক্রবার রায়ের পর হরিয়ানার পাঁচকুলা, সিরসা শহরসহ পুরো রাজ্য ও পাঞ্জাবে সংঘটিত তাণ্ডবের কারণে রোহতকের জেলেই বিশেষ কারাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর সোমবার কে সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের সময় সিবিআই এর আইনজীবী দাবি করেন, রাম রহিম এর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন আরও ৪৫ জন নারী রয়েছেন। কিন্তু তারা সামনে আসতে পারেননি। তাদেরকে তিন বছর ধরে ধর্ষণ করা হয়েছে। রাম রহিমকে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান তারা। আর বিবাদী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, রাম রহিম একজন সমাজকর্মী, তিনি সমাজ ও নারীদের কল্যাণে কাজ করেন। রাম রহিমকে অল্প সাজা দেওয়ার জন্য আবেদন করেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী। আদালতে শুনানি চলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রাম রহিম। ক্ষমা ভিক্ষা চান তিনি।
 
 
হরিয়ানা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সব মোবাইল নেটওয়ার্ক, এসএমএস সার্ভিস, ডঙ্গল সার্ভিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ভয়েস কল চালু রাখা যাবে বলা হয়েছে। রাম রহিমের সাজা ঘোষণার সময় থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সিরসায় ডেরা সাচা সৌদা প্রাঙ্গণে ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট লাইন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ জানায়, ডেরা অনুগামীদের হামলা রোখার জন্য তৈরি রয়েছে সিরসার ডেরার প্রধান ঘাঁটি লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা। তারা ইট, লাঠি, পাথর, লোহার রড নিয়ে তৈরি আছেন। শাহপুর বেঘু নামে এই গ্রামটি ডেরার প্রধান ঘাঁটি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত। এই গ্রামে প্রায় ৯ হাজার মানুষের বাস।বেশিরভাগ গ্রামবাসীই রাম রহিমের অনুগামী নন। তারা প্রশাসনের উপর ভরসা না করে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।
 

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর