বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
সদ্য সংবাদ :

খাদ্যের অভাবে কেউ কষ্ট পাবেনা : প্রধানমন্ত্রী

খেলাপি ঋণের জন্য কিছু ব্যাংক দায়ী : অর্থমন্ত্রী

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে

ঢাবি প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন ২৯ আগস্ট শেষ হচ্ছে

নড়াইলে কালিয়া সেতু নির্মাণে ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

নড়াইলে মধুমতি ভাঙনে তেতুলিয়া গ্রাম ও প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন

নায়করাজের জীবন ও কর্ম নিয়ে এ প্রজন্ম যেমন মূল্যায়ন করছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও গবেষণা করবে

মেসির দুই গোলে আলাভেসকে হারিয়েছে বার্সেলোনা

লিস্টার সিটিতে ২-০ গোলে হারিয়ে মানচেস্টারের জয় অব্যাহত

স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উ. কোরিয়ার

মিয়ানমারে সংঘর্ষে ৮৯ জন নিহতের পর আজও উত্তেজনা অব্যাহত
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:২০:২২
প্রিন্টঅ-অ+
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংর্ঘষে ৮৯ জন নিহত হওয়ার পর শনিবারও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) শুক্রবারের হামলার দায় স্বীকার করে আরো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
শুক্রবার ভোরের আগে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইন রাজ্যরে ৩০টি পুলিশ চেকপোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে সমন্বিতভাবে হামলা চালায়।
মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা জানায় শুক্রবার সন্ধ্যায়ও রাখাইনের বিভিন্নি এলাকায় সংর্ঘষ অব্যাহত ছিল। অং সান সুচির র্কাযালয় জানিয়েছে, সংর্ঘষের ঘটনায় এক সৈন্য, এক অভিবাসন র্কমর্কতা ও ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭৭ রোহিঙ্গা বিদ্রোহী মারা গেছে বলে জানিয়েছে, বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাখাইনে হামলার মাত্র একদিন আগেই সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানায় রাখাইন রাজ্যের জন্য বিশেষভাবে গঠিত ‘অ্যাডভাইজরি কমশিন’।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচবি কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন এক প্রতিবেদনে আরো জানায়, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান না দেখালে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী কট্টরপন্থার দিকে ধাবিত হতে পারে।
এদিকে গতকাল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ১৪৬ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদশে (বিজিবি)। টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি’র পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাত একটার দিকে ‘বাঙালি’ উগ্রপন্থীরা হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা মংডুর বেশ কয়েকটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহীরা হামলায় লাঠি এবং তলোয়ার ব্যবহার করেছে এবং বিস্ফোরক দিয়ে একটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছে।
সামরিক সূত্র জানায় এক হাজারের বেশি বিদ্রোহী মংডু ও বুথিডং জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামলায় অংশ নিয়েছে। বিদ্রোহীরা চেকপোস্টগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রধান স্টেশনে জড়ো হতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, প্রায় ১৫০ রোহিঙ্গা বুথিডং জেলার তং বাজার গ্রামের সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
রাখাইনে হামলার দায় স্বীকার করে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) বলেছে এ ধরনের আরো হামলা চালানো হবে।
গত বছররে অক্টোবরের পর রাখাইনে এটি সবচেয়ে বড় হামলা। সে সময় পুলিশ চেকপোস্টে এ ধরনের হামলায় নয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়। দায় স্বীকার করা এআরএসএ’র নেতা আতা উল্লাহ জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনে শত শত তরুণ রোহিঙ্গা যুবক যোগ নিয়েছে। তারা মানবাধিকারের জন্য সেনাবাহিনীকে ন্যায়সঙ্গতভাবে মোকাবেলা করবে।
টুইটারে সংগঠনটি বলেছে, বার্মিজ লুণ্ঠনবাহিনীর বিরুদ্ধে ২৫টির বেশি জায়গায় আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ ধরনের আরো ঘটনা ঘটবে।
পুিলশ চেকপোস্ট ও সেনাঘাঁিটতে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন মিয়ানমারে কার্যত সরকার প্রধান অং সান সুচি। স্টেট কাউন্সিলের পদে থাকা সুচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের এই হামলা সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হুমকি তৈরি করবে।
বিদ্রোহীদের এ ধরনের সহিংস র্কাযকলাপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে না। হামলার ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে।
পযর্বেক্ষেকরা বলছেন, গতকালের হামলা অনেক বেশি সংগঠিত। এর ফলে নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ট বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর