মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
logo
দিল্লির উপনির্বাচনই কি কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারক?
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৪:৫২:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+

ভারতের দিল্লির বাওয়ানা আসনে আজ বুধবার শুরু হয়েছে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ। এই ভোটকে ২০১৫ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই উপনির্বাচনই এএপির শেষ সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী জয়ী হতে পারলে রাজনৈতিক দল হিসেবে এএপি গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।

২০১৫ সালে দিল্লি বিধানসভার ৭০ আসনের মধ্যে ৬৭টিতে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছিল মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময় আগে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করা এএপি। সেই সময় ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বোদ্ধামহলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এএপির প্রধান ও ভারতের আয়কর বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা কেজরিওয়াল। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও এএপি ও কেজরিওয়ালের প্রতি জনসমর্থন ধীরে ধীরে কমতে থাকে।  এর প্রমাণ হলো  ২০১৫ সালের পর আর কোনো নির্বাচনে এএপির জয় না পাওয়া।

গত মার্চে এএপির বিধায়ক (এমএলএ) বেদ পারকাশ দলত্যাগ করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। এই উপনির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে লড়ছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এএপির প্রার্থী দলটির একসময়কার স্বেচ্ছাসেবী রাম চন্দ্র।

বেদ পারকাশকে পরাজিত করতে মরিয়া এএপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল, তাঁর অধীন মন্ত্রী ও অন্য শীর্ষ কর্তারা। গত কয়েক সপ্তাহে নিয়মিতই রোববার নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন কেজরিওয়াল। তাঁর দলকে আরেকবার সুযোগ দিতে তিনি ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন। এর পরও লড়াইটা তাঁর জন্য সহজ হবে না।

বাওয়ানায় পক্ষত্যাগ করা বেদ পারকাশ ছাড়াও এএপির আরেক বাধার নাম সুরেন্দ্রর কুমার। বাওয়ানা থেকে পরপর তিনবার এমএলএ হওয়া কংগ্রেসের এই ঝানু রাজনীতিককেও মোকাবিলা করতে হবে এএপিকে।

দিল্লিতে টানা ১৫ বছর ক্ষমতাসীন ছিল কংগ্রেস। কিন্তু ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এএপির কেজরিওয়ালের কাছে ধরাশয়ী হয়ে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিতের বিদায়ের পর দলটি আর জয়ের মুখ দেখেনি। তাই আজকের নির্বাচনটা কংগ্রেসের জন্যও মর্যাদা রক্ষার।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাওয়ানার এই নির্বাচন জয়-পরাজয়কেই ধরা হচ্ছে কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের শেষ সুযোগ।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন, আজকের উপনির্বাচনকে তিনি খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর