বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
logo
‘২০০ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছি’
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:২৭:২১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
‘যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে ইয়াজিদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের ওপর আইএস জঙ্গিদের অত্যাচার ও গণধর্ষণ খুবই সাধারণ ব্যাপার। আমি নিজেই ২০০-রও বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছি।

আইএস নেতৃত্বই আমাদের এই কাজের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছিল।তারা এটাকে উচিত বলেই মনে করত।’
 
 
সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই স্বীকারোক্তি অমর হুসেইন নামে গ্রেফতার হওয়া এক আইএস জঙ্গির। গত বছর অক্টোবরে কিরকুক থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
 
২০১৩ সাল থেকে এখনো অবধি ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ২১ বছরের হুসেইন।

সাক্ষাৎকারে সে আরো জানায়, ‘মা্ত্র ১৪ বছর বয়সেই আইএসে যোগ দিয়েছিলাম। মানুষ মারতে প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে সেটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। সাত, আট, নয়, দশ, ত্রিশ… চল্লিশ এভাবেই সংখ্যা বেড়ে চলছিল।

প্রথমে মরুভূমিতে নিয়ে যাওয়া হত, তারপর তাদের মেরে ফেলা হত। আমিও এভাবেই মরুভূমিতে অনেককে মেরেছি। যাকে ইচ্ছে তাকেই মারতাম।’

হুসেইনের ধর্ষণ এবং খুন করার প্রমাণ পেলেও ঠিক কতজন তার শিকার হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনো ধোঁয়াশায় গোয়েন্দারা। তারা জানিয়েছে, প্রথম দিকে হুসেইনকে সামলানো সম্ভব হত না। ওর গায়ের জোর এত বেশি ছিল যে প্লাস্টিকের হাতকড়া ভেঙে ফেলত। তবে এখন জেলের চার দেয়ালে সারাদিন কোরাআন পড়েই দিন কাটে তার।

এদিকে হুসেইনের দাবি, সে আসলে পরিস্থিতির শিকার। হুসেইনের কথায়, ‘একটা সময় টাকা ছিল না। কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ সেটা বলার মতো কোনো বন্ধু ছিল না।

এমনকী, আইএস হঠাতে ইরাকি সেনার আক্রমণে বসবাসের বাড়িটিও ভেঙে যায়।’ এরপরেই স্থানীয় মসজিদের ধর্মযাজকের হাত ধরে আল কায়দায় যোগ দেয় সে। পরে সেখান থেকেই আইএসে যোগদান। একটা সময় ইরাকি সেনার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে একাধিক শহরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছিল আইএস। সেসময় প্রত্যেকটি শহরের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর অত্যাচার চালাত জঙ্গিরা। যে বাধা দিতে আসত, তাকেই মেরে ফেলা হত। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে উত্তর ইরাকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের সময় একাধিক নারীদের যৌনদাসীতে পরিণত করে ফেলত আইএস জঙ্গিরা।

নির্মমতার এখানেই শেষ নয়, ওই নারীদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের গুলি করে মেরে ফেলা হত। শুধু হুসেইন একা নয়, এরকম আরো অনেক জঙ্গি এখন ইরাকের জেলে বন্দি। ইরাক ও যৌথবাহিনীর আক্রমণে কোণঠাসা আইএসও। আইএস অধ্যুষিত বেশিরভাগ অঞ্চলই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর