বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১
logo
ভালবাসার টানে মিশরীয় বিমান ছিনতাই
প্রকাশ : ৩০ মার্চ, ২০১৬ ১১:২৮:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+
আন্তর্জাতিক ওয়েব

কায়রো: কন্ট্রোল রুমে খবরটা আসা মাত্র ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। মিশরের স্থানীয় সময় তখন সকাল সাড়ে আটটা। ৫৫ জন যাত্রী ও সাতজন বিমানকর্মী নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রো যাওয়ার মাঝ আকাশে ইজিপ্টএয়ারের বিমান এমএস-১৮১।
ককপিট থেকে হঠাৎ খবর আসে, ছিনতাই হয়েছে বিমান! ছিনতাইকারীর দাবি অনুযায়ী বিমানটিকে বাঁ দিকে ঘুরিয়ে সাইপ্রাসের লারানকা বিমানবন্দরে অবতরণও করানো হয়। ততক্ষণে এলাকা ঘিরে ফেলেছে সশস্ত্র পুলিশ।
তখনও জানা যায়নি কে বা কারা ছিনতাই করেছে বিমানটিকে। মিশরীয় প্রশাসনকে আংশিক স্বস্তি দিয়ে অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের সব মহিলা ও শিশুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে একই সঙ্গে আসে হুমকি, পুলিশ দূরে না সরলে আত্মঘাতী বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হবে বিমান। ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা গিয়েছে ছিনতাইকারী সেইফ এলদিন মুস্তাফাকে।
কিন্তু ঠিক কী উদ্দেশ্যে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক মুস্তাফা আস্ত একটি বিমান ছিনতাই করে ফেলেছেন, তা নিয়ে তখনও ধোঁয়াশায় প্রশাসন।
রহস্যের উন্মোচন হয় আরও কিছু পরে। সাইপ্রাসের বাসিন্দা প্রাক্তন স্ত্রী-র সঙ্গে দেখা করতেই নাকি এই ‘ছিনতাই’।
তার সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনের তরফে ঘোষণা করা হয়, ঘটনাটির সঙ্গে সন্ত্রাসের কোনও যোগ নেই। স্ত্রী-র সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে হবে, এই শর্তে ৫ বিদেশি যাত্রী ও বিমানকর্মীদের ছাড়া বাকি সবাইকেই ছেড়ে দেন মুস্তাফা।
আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা মুস্তাফার মিশর ও আমেরিকা— এই দু’দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। কিছু দিন আগে প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সাইপ্রাসে আশ্রয় চান তিনি। তা না পেয়েই সাইপ্রাস সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বিমান ছিনতাইয়ের ছক কষেন মুস্তাফা।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের কাছেই অরকলিনি গ্রাম থেকে আনা হয় মুস্তাফার প্রাক্তন স্ত্রীকে। এরপর সমস্ত যাত্রী ও বিমানকর্মীকে ছেড়ে দেন মুস্তাফা। গ্রেফতার করা হয় মুস্তাফাকে।
সব কিছুর পরে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস অ্যানাস্তাসিয়াদেসের সরস মন্তব্য, ‘‘যেকোনও ঘটনার পিছনেই এক জন মহিলা থাকেন।-সংবাদ মাধ্যম।
 

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর