রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
তনু হত্যা: সিআইডিকে গণজাগরণের আলটিমেটাম
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ১২:১০:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইট ওয়েব
কুমিল্লা: কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার পর পেরিয়ে গেছে এক বছর। কিন্তু এখনো এ ঘটনায় তদন্ত শেষ হয়নি, ধরা পড়েনি কোনো আসামি। হত্যা রহস্য বের না হওয়া ও ঘাতকদের চিহিৃত করতে না পারায় সিআইডিকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লা শাখা।

সোমবার দুপুরে গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লা শাখা সিআইডিকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। সেই সঙ্গে এ কর্মসূচি অবগতির জন্য কুমিল্লা পুলিশ সুপারের বরাবরও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লা জেলার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে যদি মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হয় তাহলে আগামী ২ এপ্রিল থেকে আমরা লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন স্কুল কলেজে ক্যাম্পইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে। তাই আমরা আশা করি অচিরেই সিআইডি তনু হত্যাকারীদের শনাক্ত করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নারী সংগঠক মমতা রায়হান মম, কবি সৈয়দ আহাম্মদ তারেক, নাবিল হাসান অনিমেশ ও খন্দকার মহিবুল হক।

এর আগে সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে মানববন্ধন করে তনুর বিভাগ ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কলেজের কলা ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নাজিমুল হক স্বপন, সজীব ও সোহাগ প্রমুখ।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

শুরুতে থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের পর গত বছরের পয়লা এপ্রিল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় কুমিল্লা সিআইডি।

এরপর মে মাসে তনুর শরীর থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিল সিআইডি।

কিন্তু দুইবার করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি চিকিৎসকেরা।

বিষয়টি নিয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন বলেছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে শীতকালীন মহড়া ছিল, সেকারণে ঐ সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে কিছুটা ধীরগতি চলে এলেও এখন আবার পুরোদমে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জালাল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সামরিক ও বেসামরিক মিলে একশো'র বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তারা।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তারা সন্দেহের তালিকা তৈরি করবেন।

এছাড়া হত্যার স্থানে পাওয়া জিনিসপত্রের ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাবার অপেক্ষায় আছেন তারা, এগুলো হাতে এলে তারা অপরাধীকে ধরতে পারবেন বলে আশা করেন।

হাইলাইটস এর আরো খবর