বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯
logo
এবার মোদীর টার্গেট বঙ্গভূমি
প্রকাশ : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ১৩:২১:০৪
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইট ওয়েব
দিল্লি: উত্তরপ্রদেশ হবে মডেল। আর সেই মডেলেই রাজ্যে সংগঠনকে চাঙা করতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে সংগঠনকে চাঙা করে উত্তরপ্রদেশ জয়ের পরে এবার বাংলা নিয়েও এ ভাবেই ভাবতে শুরু করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। রাজ্য বিজেপিকে এই ভোটের আগেই সংগঠন চাঙ্গা করার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

রাজ্য বিজেপি যাই ভাবুক না কেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শূন্য থেকে শুরু করাকে তেমন কঠিন কিছু মনে করছে না। দীর্ঘ সময় উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ছিল না বিজেপি। ২০১৪ সালে গুজরাত থেকে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন অমিত শাহ। আমূল বদলে দিয়েছিলেন সংগঠনকে। আর তার ডিভিডেন্ড মিলেছিল লোকসভা নির্বাচনে।

তিন বছরের মাথায় বিধানসভা নির্বাচনে আরো বড় জয় মিলল। যেমন সংগঠনের জোরে এই জয় মিলেছে, তেমন সংগঠন গড়েই বাংলায় গেরুয়া ধ্বজা ওড়াতে চান অমিত শাহরা। রোববার দিল্লির সমাবেশ থেকেও বাংলা দখলের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন অমিত শাহ। রাজ্যে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও।

শনিবার উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে বিপুল জয়ের আগেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে সেই নির্দেশ এসে গিয়েছে। কোন কোন পথে সংগঠনকে সাজাতে হবে সেই নির্দেশও আগেই দিয়ে রেখেছেন অমিত।

এদিন দিলীপ ঘোষকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে এবেলা.ইনকে তিনি বলেন, “এটা একদিনের বিষয় নয়। তাই নির্দেশটাও আচমকা নয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই মতো কাজ এগোচ্ছে।”

শুধু মোদী হাওয়ার উপর নির্ভর করে ভোটের শতাংশ বাড়ানো গেলেও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে জয় পাওয়া যে সম্ভব নয়, তা গত কয়েকটি ভোটেই টের পেয়েছে রাজ্য বিজেপি। তবে তারও আগে রাজ্য নেতৃত্বকে সে কথা বলেছিলেন খোদ অমিত শাহ।

২০১৫ সালে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময়ে রাজ্যে এসে সংগঠন কেমন ভাবে সাজাতে হবে তার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন অমিত শাহ। এর পরেই রাজ্যে বিজেপির সভাপতি বদল হয়। অমিত শাহর দেখানো পথেই সংগঠনকে আরো তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন নতুন রাজ্য সভাপতি।

দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “রাজ্যে এখন বিজেপির সদস্য সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি। কিন্তু তাদের সকলে দলীয় কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের সক্রিয় করার পাশাপাশি নতুন সদস্য বাড়ানোর কাজও চলছে। বুথ স্তরের কমিটি গড়া হয়েছে আগেই। তা সক্রিয় করা হচ্ছে। আগে একটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একটি মণ্ডল কমিটি ছিল। এখন এক একটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে তিনটি করে মণ্ডল কমিটি গঠন করা হচ্ছে।”

এই সবই উত্তরপ্রদেশ মডেল। ছোট ছোট এলাকার জন্য কমিটি গড়েই বড় সাফল্য পেয়েছেন অমিত শাহ। এখন দিলীপ ঘোষের কাছেও সেই সংগঠন গড়ার চ্যালেঞ্জ। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও পাশে থাকবে। খোদ অমিত শাহ আসবেন রাজ্যে।

দিলীপ ঘোষ জানিয়েছে, “এপ্রিল মাসের শেষে বা মে মাসের গোড়ার দিকেই অমিত শাহ রাজ্যে আসবেন। দুইদিন থাকবেন রাজ্যে। সেই সময়ে সংগঠন নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেবেন ও পরামর্শ নেবেন তিনি।”

বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতার সংখ্যাও বাড়তে পারে। সংগঠন গড়ায় দক্ষ আরএসএস-এর কোনো কার্যকর্তা নতুন করে দায়িত্ব পেতে পারেন। অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্ঘ ফিরিয়ে নেয়ার পরে এখনও পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক পদটি খালি রয়েছে। নিয়ম অনুসারে বরাবর কোনো সঙ্ঘ প্রচারককেই এই দায়িত্ব দেয়া হয়। খুব শিগগিরই সেই পদে নিয়োগ হতে পারে।

দেখে নেয়া যাক কী কী পদক্ষেপ করছে রাজ্য বিজেপি-

১। সমস্ত সদস্যকে সক্রিয় করা।
২। বুথ স্তরের কমিটি গঠেন গুরুত্ব।
৩। প্রতিটি মণ্ডল স্তরের কমিটিতে একজন নেতা তৈরি করা।
৪। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে সংগঠনে নিয়ে আসা।
৫। রাজ্যস্তরের নেতাদের জেলায় জেলায় নিয়মিত সফর।

বিজেপির আদি পুরুষ জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় দলের খারাপ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে অনেক সময়েই গেরুয়া শিবিরের জাতীয় নেতারা আক্ষেপ করেছেন অতীতে। আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম রাও হেডগেওয়ারও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র। বর্তমান সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবেতর এক সময়ের কেন্দ্র ছিল কলকাতা।

সেই রাজ্যে রাজনৈতিক শক্তি না থাকা নিয়ে সঙ্ঘ নেতাদেরও দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে বিপুল জয়ের পরে মোদীর ভারত-বিজয় অভিযানে তাই ‘কঠিন’ বঙ্গভূমিই বড় টার্গেট। -সংবাদমাধ্যম
 

হাইলাইটস এর আরো খবর