বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
বদরুলের শাস্তি দেখে মরতে চাই: বদরুলের মা
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৫২:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

সিলেট: সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুঁপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করা বদরুল আলমের শাস্তি চেয়েছেন তারই গর্ভধারিনী মা দিলারা।
বুধবার ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে নিজ বাড়িতে এ মন্তব্য করেছেন বদরুলের মা।
বদরুলের মা দিলারা বেগম হামলার বিচার ও হামলাকারীর সাজা চেয়ে বলেন, এই বদরুল আমার সন্তান হতে পারে না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। হামলাকারীর শাস্তি দেখে মরতে চাই।
বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে নিজের ছেলের জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
দিলারা বেগম জানান, খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলার পর গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তার ছেলেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার খবর পেয়েও তারা দেখতে যাননি বদরুলকে।
এমনকি বুধবার দুপুরে তাকে হাসপাতাল থেকে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানায় নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় সিলেট জেলা আদালতে। থানা ও আদালত প্রাঙ্গণেও দেখা যায়নি তার কোনো স্বজনদের  উপস্থিতি।
বদরুলের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি অভাবী মানুষ। মানুষের কাছ থেকে সায়-সাহায্য নিয়ে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। বিদেশ থেকে আসার পর তার বাবা অসুখে পড়ে জমি-জমা বিক্রি করে দেন। সংসারে সবাই তার দিকে তাকিয়ে ছিল। অনেক আশা-ভরসা ছিল তার উপর। কিন্তু এটা কী করলো বদরুল? এটা আমার সন্তান হতে পারে না। আমি হামলার বিচার চাই।’
ছয় মাস আগে স্বামী হারিয়েছেন গৃহিনী দিলারা বেগম। চার ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বদরুল দ্বিতীয়। পিতার সৌদি আরবের আয়ের টাকায় একটি পাকা বাড়ি বানালেও পরবর্তীতে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেও জায়গাজমি বিক্রি করে দেন। এখন স্থাবর সম্পদ বলতে এই বাড়িটিই। আর কিছু নেই।
বদরুলের মা বলেন, খেয়ে না-খেয়ে অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। ছেলেমেয়েদের মধ্যে বদরুলই ছিল সবচেয়ে ভালো ছাত্র। তাকে ঘিরে ছিল সবচেয়ে বেশি আশা-ভরসা। অথচ সেই বদরুলই বুকটা ভেঙে দিল। সে এমন একটা জঘন্য কাজ করল, যার জন্য মুখ দেখাতে পারছি না। পরের মেয়েকে এমন জালিমের মতে মারল কীভাবে। সে তো এমন ছিল না।
দিলারা বেগম জানালেন, বদরুলের তিন ভাই এক বোনের মধ্যে কেউই গুরুতর আহত বদরুলকে দেখতে যাননি। যার ভেতরে মানুষের প্রতি মমতা নেই তার জন্ময কোনো মায়া তারা দেখাতে চান না। ঘটনার পর থেকে পরিবারের কেউ লজ্জায় ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
বদরুলের মা আর কোনো কথা বলতে রাজি হলেন না।

হাইলাইটস এর আরো খবর