বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
হেলিকপ্টারে ঢাকায় সেই নবজাতক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:১৮:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

ফরিদপুর: ফরিদপুরের কবরস্থান থেকে বেঁচে ফেরা  নবজাতক ‌‌‘গালিবা হায়াত’কে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় তাকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় আনা হয়।
হেলিকপ্টারে থাকা নবজাতকের বাবা ক্রিকেটার নাজমুল জানান, গালিবাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
 
এর আগে গালিবা হায়াতের চিকিৎসক, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ হিস সায়াদ জানান, গত দু’দিনে তার শারীরিক অবস্থায় একইরকম থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
গালিবা হায়াতের দাদা মো. আবুল কালাম গালিবার চিকিৎসার সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্যে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি জানান, মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে তার চিকিৎসাসেবা চালানো সম্ভব নয়।
এ সময় গালিবাকে বহনে হেলিকপ্টার প্রদানকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় জন্ম হওয়ার কিছুক্ষণ পর নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর শিশুটিকে কবর দিতে কার্টনে করে নিয়ে যাওয়া হয় কবরস্থানে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় কবর দেয়ার আগে মৃত নবজাতকের মাথা কোন দিকে রয়েছে তা দেখার জন্য কার্টনটি খোলা হয়। আর তখনই কেঁদে ওঠে নবজাতক। পায়ের দড়ি খুলে দিতেই পা ভাঁজ করে।
কেঁদে ওঠার পর নবজাতকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে।
মো. আবুল কালাম মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরে শহরের কমলাপুর এলাকায়। তিনি ফরিদপুর আনসার কার্যালয়ে উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি জানান, তার ছেলে নাজমুল হুদা ও ছেলের বউ নাজনীন আক্তার ঢাকায় থাকেন। কিছুদিন আগে ফরিদপুরে বেড়াতে আসেন তারা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে নাজনীনের প্রসববেদনা শুরু হয়। তাকে রাত ১১টার দিকে ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে হাসপাতালের দোতলায় চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক রিজিয়া আলম অস্ত্রোপচার কক্ষে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি এসে জানান হাসপাতালে আসন নেই। তারপরও তাকে অনুরোধ করা হলে “দেখব” বলে চলে যান তিনি।
তিনি আরো জানান, পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকের কক্ষে স্বাভাবিকভাবে নবজাতকটি জন্মগ্রহণ করে। এ সময় হাসপাতালের কেউ কক্ষে ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর স্বজনদের ডাকাডাকিতে ওই চিকিৎসক আবার আসেন এবং নবজাতকটি মৃত বলে জানান। এরপর শিশুটিকে একটি কাগজের কার্টনে ভরে দোতলায় মেঝের ওপর রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাত তিনটার দিকে শিশুটিকে কবর দেয়ার জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য আরেকটি শিশুর অভিভাবক কোহিনুর বেগম। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, জন্মের কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক রিজিয়া আলম পরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে একটি কার্টনে ভরে রেখে দেন।
কবর খোঁড়ার দায়িত্বে নিয়োজিত পৌরসভার কর্মচারী মো. হিরণ শেখ জানান, গতকাল রাত তিনটার দিকে ওই নবজাতকের দাদা মো. আবুল কালাম মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা একটি কার্টনে ভরে নবজাতককে কবর দিতে নিয়ে আসেন। রাতে কবরের কাজ হয় না বলে সকালে আসতে বলা হয়। সারা রাত নবজাতককে রাখা কার্টনটি একটি পাকা কবরের কার্নিশে রাখা হয়। ভোর হওয়ার পর কবর দেয়ার আগে পৌরসভার নিয়োজিত মাওলানা আবদুর রব (যিনি মৃতের কবর দেয়ার পর দোয়া পড়ে থাকেন) নবজাতকের মাথা কোন দিকে রয়েছে তা দেখতে চান। এ জন্য কার্টনটি খোলা হয়। কার্টন খুলতেই কেঁদে ওঠে নবজাতকটি। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাইলাইটস এর আরো খবর