শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
আ.লীগের সভাপতি পদে শেখ হাসিনার ৩৫ বছর
প্রকাশ : ২৩ জুন, ২০১৬ ১৭:০০:৪২
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

ঢাকা: দেশের সব চেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আছেন দলটির বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে জাতীয় ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তাকে (শেখ হাসিনাকে) সভাপতি হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে সবচেয়ে বেশি সময় দলটির সভাপতি ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সাল পর‌্যন্ত তিনি দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ৭৪ সালে তিনি সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৩ সালে থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটির সভাপতি ছিলেন- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (৪৯-৫৭), মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ (৫৭-৬৬) , শেখ মুজিবুর রহমান (৬৬-৭৪), এএইচ এম কামরুজ্জামান (৭৪), মহিউদ্দিন আহমেদ (৭৬-৭৭), আহ্বায়ক সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন (৭৭-৭৮), আবদুল মালেক উকিল (৭৮-৮১)। এরপর থেকে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- প্রতিষ্ঠতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক (৪৯-৫৩), শেখ মুজিবুর রহমান (৫৩-৬৬), তাজউদ্দীন আহমদ (৬৬-৭০), মো. জিল্লুর রহমান (৭২-৭৬), সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (৭৬-৭৭), আব্দুর রাজ্জাক(৭৮- ৮৩),  সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (৮৩-৮৭), মো. জিল্লুর রহমান (৯২-৯৭), আব্দুল জলিল  (২০০০-০৮ ), সৈয়দ আশরাফুল ইললাম ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত।         
আওয়ামী লীগের ৬৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ ঘটে দলটির। বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’।
পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘কোথাও হল বা জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন সাহেবের রোজ গার্ডেন বাড়িতে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়েছিল।’
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দেশে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সব আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। ১৯৬৬ সালে ছয় দফাভিত্তিক বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সাফল্যের পথ ধরে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ রায় দেয়।
১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যাত্রা শুরু করলেও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালে কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। নতুন নাম হয়-‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম নেয় দলটি।

হাইলাইটস এর আরো খবর