শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
শরীফও ছদ্মনাম, জানতো না ডিবি!
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৬ ১৭:৫০:১৩
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

ঢাকা : রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবকের নাম মাহনগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে শরীফ দাবি করা হলেও নিহতের পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। সোমবার নিহতের ভগ্নিপতি হেদায়েত উল্লাহ ভোটার আইডি কার্ডসহ হাজির হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে।
ভোটার আইডিকার্ড অনুযায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবকের নাম মুকবুল হোসেন রানা। বয়স ২৬। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানা এলাকার বালাইগাছ গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। মায়ের নাম ছখিনা বেগম।
নিহতের ভগ্নিপতি হেদায়েত উল্লাহ জানান, মুকবুল রানা সাতক্ষীরা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি শেষবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০ দিন আগে অর্থাৎ ১ জুন নিখোঁজ হন। পরে তারা সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু তারপরও রানার খোঁজ না পেয়ে পরিবার চরম হতাশায় ভুগছিল। এরইমধ্যে গতকাল তারা টিভিতে বন্দুকযুদ্ধে রানার নিহত হওয়ার খবর দেখেন। কিন্তু খবরে তার নাম শরীফুল ওরফে শরীফ ওরফে আরিফ বলা হয়। এতে তারা কিছুটা বিস্মিত হন। পরে তথ্যটি নিশ্চিত হতে রোববার রাতেই হেদায়েত উল্লাহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
হেদায়েত উল্লাহ বাংলামেইলকে বলেন, ‘রানা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত কি না, আমাদের জানা নেই। মাঝে মাঝে সে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতো, তবে প্রতিনিয়ত না।’
এর আগেও রানা ঢাকায় এসেছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রানা মাঝে মাঝে ঢাকায় আসতো, তবে সে কোথায় থাকতো বা কি করতো সে ব্যাপারে বাড়িতে কিছুই জানাতো না।’
এদিকে ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীফ এবিটির সামরিক শাখার একজন শীর্ষ সংগঠক। তিনি গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসিতে খুন হওয়া বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তার বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এছাড়াও শরীফের সমন্বয়ে খুন করা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপন, ব্লগার নীলাদ্রি নিলয়, শান্তা-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদ মোর্শেদ বাবু, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিম উদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানের ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা ও সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাজ মান্নান ও নাট্যকর্মী তনয়কে।
শরীফের পরিবারের দাবির বিষয়ে কথা বলতে ডিবির ডিসি (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি মিডিয়া মাসুদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জঙ্গিরা পরিচয় গোপন রাখার জন্য অনেক রকমের নাম ব্যবহার করে থাকে। তবে সেই যে অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারী সে বিষয়ে পুলিশের কাছে যথেষ্ঠ তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।’ এছাড়াও তার সমন্বয়ে এবিটি বেশকয়েকটি হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রোববার (১৯ জুন) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিবির ডিসি (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালিদ, ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে, শনিবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন শরীফ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ডিএমপির পক্ষ থেকে মোস্ট ওয়ান্টেড ৬ জঙ্গির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরা বিভিন্ন সময়ে ব্লগার ও মুক্তমনাদের হত্যায় সরাসরি জড়িত দাবি করে তাদের ধরিয়ে দিতে ১৭ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। ওই তালিকায় শরীফের নাম ছিল শীর্ষে। তাকে ধরিয়ে দিয়ে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়।

হাইলাইটস এর আরো খবর