শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
logo
এতো অস্ত্র! শান্তিতে বাঁচার আর সুযোগ নাই
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০১৬ ১৩:২০:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

ঢাকা: ওই দিকে যাওয়া যাইবো না। পুরা এলাকায় পুলিশে ভরা। ঝামেলা হচ্ছে। শুনছি অনেক পিস্তল পাইছে। এখন এই দিকে যাইয়েন না।
উত্তরায় এমন অকস্মাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল তখন (শনিবার বিকেলে)। একটা আবাসিক এলাকায় একসাথে এতো অস্ত্র উদ্ধার কেউ দেখেনি কখনো। কোথা থেকে এলো এসব? এতো দামি দামি অস্ত্র খালে পড়ে আছে কেন?
এদিন এলাকার বৌদ্ধমন্দিরের পাশের খাল থেকে পুলিশ সাতটি ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগগুলোতে ছিল: ৯৫টি বিদেশি ৭ দশমিক ৬২ (মি.মি) বোরের পিস্তল, দু’টি দেশি ৭ দশমিক ৬২ (মি.মি) বোরের পিস্তল, ১৮৯টি ৭ দশমিক ৬৫ (মি.মি) পিস্তলের ম্যাগজিন, ১০টি গ্লোপ পিস্তলের ম্যাগজিন, ২৬৩টি এসএমজি ম্যাগজিন, ২২০ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ (মি.মি) বোরের পিস্তলের গুলি, ৮৪০ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের গুলি, ১০টি বেয়নেট, গুলি তৈরির ১০৪টি ছাচবোড, ১৯ অস্ত্রের বাট পরিষ্কার করার যন্ত্র।
এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বুঝা গেল স্থানীয় বাসিন্দারা কতো সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন এই ঘটনায়।
বৌদ্ধমন্দিরটা কোন দিকে? শুনেই জানতে চাইলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে ভয়ে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এক চা বিক্রেতা শশব্যস্ত হয়ে বললেন, ওই দিকে যাইয়েন না।
অস্ত্র উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। অন্যান্য দিনে চায়ের দোকানে বসে গভীররাত পর্যন্ত অনেককে আড্ডা দিতে দেখা গেলেও এদিন রাত ৯টার মধ্যেই প্রায় সব দোকানের ঝাপ নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের গভীর রাত পর্যন্ত আনাগোনা থাকলেও এদিন বাসায় ফিরেছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। সবার মধ্যে অজানা আতঙ্ক। প্রশ্নও অনেক। কোথা থেকে এলো এত অস্ত্র? কারা আনলো? কী উদ্দেশ্যে আনা হলো? নাকি অন্য কিছু?
১১ নম্বর চৌরাস্তা মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসা আরাফাত হোসেন পাশে বসে থাকা বন্ধুর উদ্দেশে বলছেন, এতো অস্ত্র উদ্ধার হইছে এইখান থেকে। কীভাবে গেল এগুলো এতো ভিতরে। শান্তিতে বাঁচার আর সুযোগ নাই। আরও না কত অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে আছে।
আরাফাত হোসেনের সঙ্গে একমত শান্তা মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ। তিনি বলে উঠেন, দেশ দিনদিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এত অস্ত্র। তাও সবগুলো নতুন! এতগুলো অস্ত্র নিয়া খালের কাছে চলে গেল আর পুলিশ কি না পরে খবর পাইছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শুধু শুধু মানুষকে তল্লাশি করে। তাইলে ওদের আটকাইতে পারলো না।
পাশেই বসে থাকা আরেক শিক্ষার্থী জাকির আহ্মেদ বলেন, শুনছি নাম্বার ছাড়া গাড়ি দিয়া নাকি এগুলো নিয়া গেছে। তখন পুলিশ ওদের আটকাইলো না ক্যান?
একই বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল ১৪ নম্বর জহুরা মার্কেটের সামনে। একটা চায়ের দোকান রাত ৯টার দিকে বন্ধ হচ্ছে দেখে কয়েকজন দোকানিকে ডেকে বললো, ‘মামা এতো সকাল সকাল বন্ধ কর ক্যান?’ চায়ের দোকানদার বলে, ‘মামা কাস্টমার নাই। পুলিশ ঘুরতাছে সমানে। পাবলিকও সব বাসায় গেছে গা। আমি আর বইসা থাইক্কা কী করমু? আপনারাও যান গা কাইলকা আইয়েন।’
১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড় এলাকা। লোকজনে সরব থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। কিন্তু এদিনের চিত্রটা ভিন্ন। অনেকটাই ফাঁকা। ৯টার পর থেকেই লোকজন কমা শুরু হয়েছে। পুলিশের চেকপোস্টেও বেড়েছে তল্লাশি। খালপাড় রাস্তার ধারে চা খেতে খেতে মঞ্জু নামের এক মিনিট্রাক ড্রাইভার বলেন, ‘হাউজবিল্ডিং থাইক্কা এইখানে আইতে তিনবার পুলিশ আটকাইছে। যারা আকাম করে তাদের ধরতে পারে না। হুদাই আমাগো জ্বালায়!’
পাশ থেকে আরেকজন পথচারি চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে বলেন, এই বন্দুক দিয়ে না জানি কী কাণ্ড ঘটানো হতো! খালি এই এলাকাতেই সব অস্ত্র আনা হয়েছে নাকি অন্য জায়গাতেও রাখা হয়েছে এ নিয়ে তা

হাইলাইটস এর আরো খবর