শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
আইভীর যানজটে শামীম ওসমান ট্রাফিক পুলিশ!
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৬ ২০:১৭:২৯
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে যানজট নিরসনে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সেটা ছিল আজ থেকে মাস চারেক আগে জানুয়ারির ঘটনা। সে সময় বন্দর নগরীর যানজট নিরসনে ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বও পালন করেছিলেন শামীম ওসমান।
তবে এমপির অভিযোগ, ওইসব পরামর্শে কান দেননি সিটি মেয়র। সে কারণে যানজটের দুর্ভোগ থেকে রেহায় পায়নি নগরবাসী। তাই ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে আবারো ট্রাফিক পুলিশ সেজে রাজপথে নামলেন শামীম ওসমান।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন পাগলা-ফতুল্লা সড়কে যখন ছিল তীব্র যানজট, তখনই ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় নামলেন এমপি শামীম ওসমান। তিনি যানজট নিরসনে কিছুক্ষণ দায়িত্ব পালন করলেনও।
নিজ সংসদীয় এলাকা না হলেও ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে এভাবে যানজট নিরসন করার জন্য গত ১৪ জুন নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে বসে আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতেই শনিবার বিকেলে ব্যস্ত রাস্তায় নেমে আসেন।
তবে আগাম ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) থেকেই যানজট নিরসনে মাঠে নামে এমপি শামীম ওসমানের অনুগত ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেই শনিবার বিকেল ৩টায় চাষাঢ়ায় আসেন শামীম ওসমান। ওইসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তিনি যানজট সম্পর্কে তথ্য নেন।
পুরাতন পাগলা-ফতুল্লা সড়কে তীব্র যানজটের মধ্যে ট্রাফিকের ভূমিকায় থাকা এমপি শামীম ওসমান সড়কে চলাচলকারী আনন্দ পরিবহনের কাউন্টারে যান। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দ্রুত সরিয়ে নিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘একটির বেশি গাড়ি রাখা যাবে না। দ্রুত এখান থেকে গাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাও।'
শামীম ওসামনের পর্যবেক্ষণ চলাকালীন জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাইকে সাধারণ যাত্রীদের ঘোষণা দেয়, রাস্তা ছেড়ে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করার জন্য। কিন্তু গত ১৪ জুন নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব থেকে ফুটপাতে হকার বসার জন্য ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ওই ঘোষণার পরদিন (১৫ জুন) থেকে ফুটপাতের রাস্তা দখল করে বসে যায় হকাররা। আর এতে করে লোকজনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর ওপর যানজট থাকায় চরম বিড়ম্বনায় পড়ে পথচারীরা।
যদিও রোজা শুরুর আগেই জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ফুটপাথ হকার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেসময় শহরের ফুটপাত একেবারেই হকারশূন্য হয়ে সাধারণ মানুষ স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করছিল।
এসব নানা কারণে লেজে গোবরে অবস্থা সামাল দিতে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক শামীম আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন শামীম ওসমান।
শামীম আহমেদ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক ও লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী গাড়িগুলোর মধ্যে আলাদা লাইন করতে ডিভাইডার দেয়া কিংবা যানজট নিরসনে আরো ভালো কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে কথা হয়েছে এমপি সাহেবের সঙ্গে।’
ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা এমপি শামীম ওসমানের উদ্দেশ্যকে সুন্দর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তবে গাড়ি চালকরা যদি এ নিয়ম না মানে, তাহলে অনেক বড় সমস্যা হবে। যানজট আরো বাড়বে। এছাড়া চালকরা বেশি শিক্ষিত না। যে কারণে তাদের অনেকের পক্ষে পজেটিভ ওই ওয়েটা না মানার আশঙ্কা বেশি। যদি তারা না মানে তাহলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা বেশি হবে।’
এ ব্যাপারে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোজার মধ্যে যানজটের কারণে লোকজনকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর আগে জানুয়ারিতে আমরা যানজট নিরসনে সরেজমিনে কাজ করে কিছু প্রস্তাবনা সিটি করপোরেশনকে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেগুলো কর্ণপাত করেনি। এবারের রোজার মধ্যে শহরের যানজট নিরসনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কাজ করছে। আমি পরিদর্শন করেছিলাম।’
তবে এসব ঘটনায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘যানজট নিরসন করা তো ট্রাফিক পুলিশের কাজ।’
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে গেল ১২ জানুয়ারি তিনদিনব্যাপী অভিযানে অনুসারীদের নিয়ে মাঠে নামেন এমপি শামীম ওসমান। তালিকায় ছিল তোলারাম কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের অর্ধশতাধিক বিএনসিসি ক্যাডেট, শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই অভিযানের পর গেল ৫ মাস যানজট নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গত ১৪ জুন হঠাৎ করেই আবার যানজট নিরসনের সদলবলে মাঠে নামেন শামীম ওসমান।

হাইলাইটস এর আরো খবর